আড়াইহাজারের প্রভাকরদী সেতুর কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০২
২০১১ সালের ৬ জুন প্রভাকরদী সেতুর দক্ষিণপাশের গার্ডার বিকট শব্দে মাঝখানে ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায়। ২০১২ সালের ৪ আগস্ট আরেকটি গার্ডার মাঝখানে ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায়। এরপরই থেমে যায় সেতুর নির্মাণ কাজ। ইতিমধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের প্রায় আড়াই কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেছেন। দেড় বছর মেয়াদে সেতু নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও গত তিন বছরেও তা শেষ হয়নি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলছে, প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে কাজ সমাপ্ত করা যাচ্ছে না। ফলে প্রভাকরদী সেতুটির ভবিষ্যত্ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সওজ জানিয়েছে, স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবু পুনরায় সেতুটির অর্থ বরাদ্দের জন্য চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন ব্রহ্মপুত্র নদের উপর সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০০৭ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ৩ কোটি ২২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৬২ টাকা ব্যয়ে সেতুর কাজ দেয়া হয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টি এস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী জিল্লুর রহমানকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণ ত্রুটির কারণেই সেতুর গার্ডার ভেঙ্গে পড়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন ঠিকাদার। তার ভাষ্য, পিসি গার্ডারটি পেনশন করার পর শিফটিং করার সময় হাইড্রলিক জক মিস করার কারণে পিসি গার্ডারটি ভেঙ্গে পড়ে। এরকম ১০/১২টি ৫০ মিটার পিসি গার্ডার চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, কাঞ্চনসহ বিভিন্ন স্থানে আমার জানামতে ভেঙ্গে পড়েছে। নির্মাণে কোন ত্রুটি ছিলো না। ডিজাইনে কোন ত্রুটির কারণে ৫০ মিটার পিসি গার্ডারগুলো ভেঙ্গে পড়েছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। এই প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিলে কাজ সমাপ্ত করা যাবে। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, আমি এখানে যোগদানের পূর্বেই ঠিকাদার প্রকল্পের প্রায় অধিকাংশ টাকা উত্তোলন করেছেন। স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, বরাদ্দ পেয়ে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।