বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) শিশুতোষ শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সিসিমপুরের ৭ম বছর উপলক্ষে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলো ২ দিনব্যাপী সিসিমপুর মেলা। এই দুটো দিন শিশুদের কেটেছে মহানন্দে। গত শুক্রবার রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল মাঠে আয়োজিত মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল হান্নান। গতকাল শনিবার সমাপনীতে জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন প্রধানসহ অতিথি এবং আয়োজক সিসেমি ওয়ার্কশপের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিসিমপুরের কথা শুনলেই শিশুদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে হালুম, টুকটুকি, ইকরি ও শিকুদের মতো জনপ্রিয় কিছু মুখ। সেই সঙ্গে লাল মিয়া মিলনায়তন, সুমনার স্কুল, কুটকুকির বাড়ি, মুকুলের বনমালী নার্সারিসহ সিসিমপুরের আনন্দময় স্বপ্নিল জগত্। রাজশাহীর শিশুরা তাদের স্বপ্নের চরিত্রগুলো কাছ থেকে দেখতে ছুটে আসে, সিসিমপুরের প্রিয় চরিত্রগুলোর সঙ্গে শিশুরা আনন্দে ভাসে। কারণ সিসিমপুরের সেই পরিবেশের সঙ্গে শিশুদের প্রিয় সেই চরিত্রগুলোর সমাবেশ ঘটেছিল কলেজিয়েট স্কুল চত্বরে। শিশুদের আকৃষ্ট করতে মেলায় ছিল মজার যাদুর স্টল ‘ইনি-মিনি-সিনি’ আর সিসিমপুরের সব লাইভ শো। রঙ-চঙ-সঙ স্টলে শিশুরা ইচ্ছেমতো রঙ দিয়ে সাজায় সিসিমপুরের হালুম, টুকটুকি আর ইকরিদের। হাল্কা ভারী স্টলে ছিল শিশুদের ওজন আর উচ্চতা মাপার আয়োজন। যেখানে শিশুরা জেনে নিতে পারে কত উচ্চতার শিশুদের কত ওজন প্রয়োজন। সিসিমপুরের সব ছবিগুলো সাজানো ছিল ক্লিক-ক্লিক নামের স্টলে। শিশুদের জন্য বইপড়ার আয়োজন ছিল পড়া-লেখা স্টলে। সেই সঙ্গে ছিল বিশাল বিশাল পাজেল মেলানোর খেলা। ঘোরাঘুরি স্টলে আয়োজন করা হয় সিসিমপুরের শিশুপ্রিয় গানের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও সুষম খাবারের মজার খেলা। মেলায় সিমেমিস্কোপ থেকে শিশুদের চোখ যেন সরতে চাইছিল না। কারণ সেখানে বায়োস্কোপের ফুটোয় চোখ লাগিয়ে শিশুরা দেখতে পায় সিসিমপুর। সাপলুডুর আদলে মেলার মাঝখানে আয়োজন ছিল স্বাস্থ্যলুডুর। শিশুদের কখন কী প্রয়োজন, তা জানা যাচ্ছিল এই স্বাস্থ্যলুডু থেকে। তার পাশেই ছিল পুষ্টিকর ও সুষম খাবার নিয়ে মজার খেলা এক্কা দোক্কা।
মেলায় সিসিমপুর স্টুডিওতে আয়োজন করা হয় লাইভ সিসিমপুরের। আধাঘণ্টা পর পর সেখানে টিভিতে দেখা চরিত্রগুলোর কাণ্ডকারখানা সামনা-সামনি দেখার সুযোগ হয়েছে শিশুদের। চরিত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলার সুযোগও ছিল লাইভ স্টুডিওতে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে সিসিমপুর মেলা। প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও মেলায় শিশুদের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। দুপুরের পর শিশু ও অভিভাবকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা চত্বর।
ইউএসএআইডির আর্থিক সহযোগিতায় সিসেমি ওয়ার্কশপ এই মেলার আয়োজন করে। সিমেমির অ্যাসোসিয়েট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর খলিলুর রহমান বলেন, ২০০৪ সাল থেকে বিটিভিতে শুরু সিসিমপুর শিশুদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। এর মাধ্যমে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাগ্রহণ ও সচেতন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। অনুষ্ঠানটি ৩ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের আরো কাছে পৌঁছে দিতে এ মেলার আয়োজন।
