পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটা শহরে হাজার হাজার শিয়া মুসলিম তাদের নিরাপত্তার দাবিতে বোমা-হামলায় নিহতদের কফিন দিয়ে গতকাল শনিবার পথ অবরোধ শুরু করে রাখে। গত বৃহস্পতিবার রাতে শহরে দু’টি বোমা হামলায় প্রায় একশ’ লোক নিহত হয়, যাদের বেশির ভাগই শিয়া। কয়েকজনের মরদেহ নিয়েই শিয়ারা প্রতিবাদে নামেন। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার কোয়েটা, সোয়াত ও করাচিতে চারটি বোমা বিস্ফোরণে ১৪০ জন নিহত হয়। আহত হয় আরো অনেকে। খবর বিবিসির।
কোয়েটা শহরের নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়া ও প্রাদেশিক সরকারকে বরখাস্ত করারও দাবি জানান শিয়ারা। শিয়া নেতারা তাদের নিরাপত্তা বিধানে ব্যর্থতার জন্য সরকার বিশেষ করে সেনা প্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানির তীব্র সমালোচনা করছেন। এক বিক্ষোভকারী বলেন, তীব্র শীতের মধ্যেও শুক্রবার সারারাত ধরে তারা বিক্ষোভ করেন সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদ জানাতে। তাদের একমাত্র দাবি, সরকার যেন শিয়াদের হত্যা বন্ধ করে। শিয়াদের সংগঠন শিয়া কনফারেন্সের প্রধান সৈয়দ দাউদ আগা বলেছেন, সেনাবাহিনী যতক্ষণ পর্যন্ত কথা না দিচ্ছে যে তারা কোয়েটা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা নিহতদের দাফন করবেন না।
পাকিস্তানে সন্ত্রাসী আত্মঘাতী হামলা নতুন কিছু নয়, কিন্তু কোয়েটায় স্নুকার হলে যেভাবে প্রায় একশ’ মানুষ এই হামলার বলি হয়েছেন, সেটা সবাইকে স্তম্ভিত করেছে। নিহতদের বেশিরভাগই শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের মানুষ। সুন্নী জঙ্গী গোষ্ঠী লস্কর-ই-জাংভি দাবি করেছে, এই হামলা তারাই চালিয়েছে।
