পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি অব্যাহত তদন্ত কমিটি গঠন, ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৩
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতিবাদে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল করে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টের অপচেষ্টার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার রংপুরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকালে দুর্নীতি বিরোধী মঞ্চের উদ্যোগে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং বিকালে রাজা রামমোহন ক্লাব মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামপ্রতিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সাধারণ শিক্ষকরা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবং অনিয়ম-দুর্নীতির কবল থেকে রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বাঁচানোর দাবিতে গতকাল সকালে রংপুর জেলা কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি ও বাসদের উদ্যোগে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে গত ১০ জানুয়ারি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার সত্যতা যাচাই, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ও প্রকৃত ঘটনার প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং সুপারিশ প্রদানের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অপরদিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদসহ ২ শিক্ষকের ওপর এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ ছাত্র মেহেদী হাসান শিশির, মোঃ আলী রাজ ও হাদীউজ্জামান হাদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে ড. তুহিন ওয়াদুদ কোতোয়ালী থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২১ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এদিকে গ্রেফতারকৃত ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান শিশির, মোঃ আলী রাজ ও হাদীউজ্জামান হাদীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল এবং মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে মহানগরীর পার্কের মোড় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে আধাঘণ্টা রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। বক্তারা জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ ও সেলিমের নগ্ন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। তারা ক্যাম্পাসকে জামায়াত-শিবির মুক্ত, ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখাসহ গ্রেফতারকৃত ৩ ছাত্রলীগ নেতার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তির দাবি জানান। অন্যথায় মডার্ন মোড়, পার্কের মোড়, লালবাগ ও দর্শনা মোড় অচল করার হুমকি দেয়া হয়। এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের কেন্দ ীয় সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম মাসুদ জানান, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই। ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কতিপয় দুষ্কৃতকারী নানা অপকর্ম করছে। ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ সহিংস ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে গতকাল বিকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামপ্রতিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকবৃন্দের অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ড. মাসুম আহমেদ পাটোয়ারী। সম্মেলনে বলা হয়, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। এর অবসান হওয়া প্রয়োজন। অনিয়ম-দুর্নীতি কেউ করে থাকলে প্রচলিত আইনে সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করা কোন সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না। সম্মেলনে ৬০ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি বিরোধী মঞ্চের উদ্যোগে গতকাল দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন শেষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আরএম হাফিজুর রহমান সেলিম, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশরাফুল আলম, সহকারী অধ্যাপক ইলিয়াস প্রামানিক প্রমুখ। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ’ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট পার্টি রংপুর জেলা শাখার সভাপতি শাহাদত্ হোসেন, গণতন্ত্রী পার্টি জেলা শাখার সভাপতি আরশাদ হারুন, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হক্কানী, জাসদ জেলা সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত রাঙ্গা, বাসদ জেলা সমন্বয়ক কমরেড আব্দুল কুদ্দুস, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামীম তালুকদার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. রেজাউল হক, প্রজন্ম ৭১’র সভাপতি দেবদাস ঘোষ দেবু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ড. শ্বাশত ভট্টাচার্য প্রমুখ। বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, অন্যথায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, গত ১১ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকসহ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ পাঠ করে আমি বিস্মিত হয়েছি। সংবাদে বলা হয়েছে, আমি ১০ জানুয়ারি ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছি।’ কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, ‘আমি ১০ জানুয়ারি প্রফেসর ড. মু. আব্দুল জলিল মিয়ার অনুপস্থিতিতে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করছিলাম। আমি দু’জন শিক্ষকের আহত হবার বিষয়টি জানতে পেরে প্রক্টরিয়াল বডির কয়েকজনকে নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সাথে দেখা করতে যাই। এরপর আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বুঝাতে চেষ্টা করি। কাজেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা সম্পর্কিত প্রকাশিত সংবাদটি অসত্য এবং বিভ্রান্তিকর।’ প্রতিনিধির বক্তব্য রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হকের প্রতিবাদ পড়লেই বোঝা যায় তিনি আন্দোলনরত শিক্ষকদের কর্মসূচিস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্য সেখানে উপস্থিত সকলে এবং রংপুরে কর্মরত বেসরকারি টেলিভিশন ও পত্রিকার সাংবাদিকরা ধারণ করেন। প্রকাশিত সংবাদটি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলার কোন অবকাশ নেই।