তরুণী উদ্যোক্তা

বাধা থাকবে তারপরও এগিয়ে যাবো

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:২৭
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নারীরা এগিয়ে চলেছে। আমাদের দেশে নারীদের অবস্থান প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় ভাল। দিন দিন ছোট উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বড় উদ্যোক্তার সংখ্যা বেড়েই চলছে। সেলিমা আহমাদ বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসার সাথে যোগাযোগ। মাস্টার্সের পর তার নিজস্ব ব্যবসা সুইফট শুরু করেন। ১৯৮৪ সাল থেকে তিনি নিটল গ্রুপের ভাইস চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উইমেন চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন। নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে তাদের সংগঠন থেকে ব্যবস্থা করা হয় নানা প্রশিক্ষণের। তিনি বলেন যুগ যুগ ধরে মানুষের মন মানসিকতার ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বাবা, ভাইয়েরা তাদের মেয়ে, বোন, মায়েদের উপর ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে আস্থা স্থাপন করতে শুরু করেছে। গ্রামেগঞ্জে ঘরে ঘরে বেড়ে উঠছে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা। শহরাঞ্চলের অনেক দোকানের মালিক নারী। অনেক ছেলে তার ব্যবসা চালানোর দায়িত্ব অর্পণ করছে তার মায়ের উপর, নিশ্চিন্তে। যে চিত্র আমাদের জন্য ব্যতিক্রমী, তবু সত্য। পিতারা তাদের কন্যার উপর ছেড়ে দিচ্ছে তাদের ব্যবসার দায়িত্ব। নারীরাও ব্যবসা ক্ষেত্রে নিজ দায়িত্ব পালনে দক্ষ হয়ে উঠেছে। গ্রামগঞ্জে উন্নয়নের ধারাও বয়ে চলেছে, তবে ছোট বড় সব ধরনের উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাবার পথে বড় বাধা নিরাপত্তা। অনেক উদ্যোক্তা আগ্রহী হলেও সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে তারা এগিয়ে যেতে পারে না। নিরাপত্তার অভাবে হতে হয় নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সঠিক দিক নির্দেশনা দেবার জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে কারো কারো ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট পেতে অনেক সময় লাগে, যা এসব ক্ষেত্রে নারীদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ হলে খুলে যাবে নারীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত। পলমল গার্মেন্টসের ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছে সিলভানা শিকদার। তারা দুই বোনই এ কোম্পানীর ডিরেক্টরের দায়িত্বে রয়েছেন। বোনদের মধ্যে তিনি বড়। তার বাবা নুরুল হক শিকদারের অনুপ্রেরণা থেকেই আজ তারা এ অবস্থায় এসে পৌঁছেছেন। তিনিই তাকে ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গিয়েছেন। বর্তমানে তিনি প্যাকেজিং বিজনেস দেখছেন। পলমল প্যাকেজিং বিজনেসের ম্যানেজিং ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন ছোট বেলা থেকেই বাবার সাথে অফিসে যেতেন। ব্যাংককে তিনি বিবিএ সম্পন্ন করেন। তার পড়াশোনা যেন সবসময় ব্যবসায় কাজে লাগাতে পারেন সেটিই ছিল তার পিতার কামনা। সিলভানা শিকদার বলেন আগে সকলের মধ্যে ম্যানেজার হিসেবে নারীকে গ্রহণ করার মন মানসিকতা ছিল না। এই ধরনের দায়িত্ব পালনে পুরুষদের তুলনায় নারীদের অনেক বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হত। কিন্তু এখন যুগ পাল্টেছে। নারী পুরুষের মধ্যেকার ভেদাভেদ কমে গিয়েছে। নারীরা কোন বাধা ছাড়াই পিতা, ভাইয়ের ব্যবসার দায়িত্ব পালনে সক্ষম হচ্ছে। পিতারা শুধুমাত্র তার পুত্রের উপরেই ব্যবসার ভার ছেড়ে দিচ্ছেন না, মেয়েদেরকেও দিচ্ছেন সমানভাবে ব্যবসা দেখার দায়িত্ব। তিনি আজকে যে পর্যায়ে আছেন তার পিছনে রয়েছে তার বাবার সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা। প্রতিটি বাবার প্রতি তার আবেদন, ব্যবসার ক্ষেত্রে কন্যাকে দুর্বল মনে করে তার হাতে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ছেড়ে দিতে যেন কুণ্ঠা বোধ না করেন বা কন্যারা নিজেরাও যেন কখনও এক্ষেত্রে নিজেদের দুর্বল মনে না করে। কেননা বর্তমান যুগে নারী পুরুষের কোন পার্থক্যই নেই। বৈষম্য কমে আসছে। নারীরা প্রায় সব ক্ষেত্রে পুরুষের সমকক্ষ হয়ে উঠছে। নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে তাদের সংগঠন থেকে ব্যবস্থা করা হয় নানা প্রশিক্ষণের। তিনি বলেন যুগ যুগ ধরে মানুষের মন মানসিকতার ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে বাবা নুরুল হক শিকদারের অনুপ্রেরণা থেকেই আজ তারা এ অবস্থায় এসে পৌঁছেছেন। তিনিই তাকে ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গিয়েছেন। বর্তমানে তিনি প্যাকেজিং বিজনেস দেখছেন