কেশবপুরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের ১২৫ টন চাল ফেরত চলে গেছে। এর মধ্যে এলাকার সংসদ সদস্যের অনুকূলে বিশেষ বরাদ্দের ৯৩ টন চালও রয়েছে। সময়মতো প্রকল্প জমা দিতে না পারায় এবং কোন কোন প্রকল্পের প্রথম কিস্তির চাল উত্তোলনের পর কাজ না হওয়ায় এই চাল ফেরত গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফেরত যাওয়া চালের সরকারি মূল্য প্রায় ৪২ লাখ ২৫ হাজার ৬২৫ টাকা।
এদিকে চাল ফেরত যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় নাগরিক কমিটির অন্যতম নেতা এডভোকেট আবু বকর সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাড়ি অভয়নগরে হওয়ায় তিনি কেশবপুরবাসীকে অবহেলা করেন। বিতর্কিত কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে গোটা কেশবপুরের মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। তিনি চাল ফেরত যাওয়ার ঘটনা তদন্ত করে বিচার দাবি করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিপুল কুমার মালাকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নামে ৫৭টি প্রকল্পের জন্য ১৪২ টন টিআরের চাল জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে গত বছরের ৭ নভেম্বর বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকারি নিয়মানুযায়ী খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলনের শেষ তারিখ ছিল গত ৭ ডিসেম্বর। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে মাত্র ৩৫টি প্রকল্পের বিপরীতে ৪৯ টন চাল উত্তোলন করা হয়েছে। বাকি ৯৩ টন চালের জন্য সময়মত প্রকল্প কমিটি জমা না দেয়ায় ওই চাল ফেরত যায়। প্রকল্প গ্রহণের সময় ব্যক্তি পছন্দ ও টন প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণ করতে যেয়ে নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একইভাবে উপজেলা পরিষদের অনুকূলে সাধারণ বরাদ্দের ১১৬ টন চাল জেলা প্রাশসক দপ্তর থেকে একই তারিখে বরাদ্দ দেয়া হয়। উপজেলা পরিষদের সভা থেকে উপজেলার ৯ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের অনুকূলে জনসংখ্যা অনুপাতে চাল ভাগ করে দেয়া হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও যথাসময়ে ৯টি প্রকল্প উপজেলা প্রকল্প অফিসে জমা দেয়া হয়নি। যে কারণে ৩২ টন চাল ফেরত চলে গেছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর শ্রীগঞ্জ বাজার জামে মসজিদ উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত ২ টন চাল সংসদ সদস্য নিজে প্রকল্প কমিটি অনুমোদন দিবেন বলে রেখে দিয়েছিলেন। ওই চালও ফেরত যাওয়ায় এলাকার মুসল্লীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি শেখ আব্দুল ওহাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।
