জ্বালানি তেল বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোসহ আট দফা দাবি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পূরণ না করা হলে ২০ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাবে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ওই দিন ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন, বিপণন বা পরিবহন কোনটাই করা হবে না।
গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সমন্বয়কারি মোহাম্মদ নাজমুল হক। ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাজান মিয়াসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
পরিষদের অন্য দাবিগুলো হল- ট্যাংকলরির ভাড়া বাড়ানো, শ্রমিকদের দুর্ঘটনা বীমা পাঁচ লাখ টাকা করা, তেল ডিপোর টার্মিনাল সংস্কার, ভেজাল রোধে বিএসটিআই’র টলারেন্স মাত্রা যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা।
ডিজেলে কমিশন বাড়িয়ে তিন দশমিক চার শতাংশ এবং পেট্রোল ও অকটেনে চার শতাংশ করার দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি করে পাম্প মালিকরা দুই দশমিক ৪৫ শতাংশ, পেট্রোলে তিন দশমিক ২৭ শতাংশ এবং অকটেনে তিন দশমিক ৩০ শতাংশ হারে কমিশন পান।
নাজমুল হক বলেন, ২০১০ সালের জুন মাসে সরকার কমিশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেনি। কয়েক দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তেলের কমিশন বাড়ানো হয়নি। এতে পেট্রোল পাম্প মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০১০ সালে নেয়া সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরো এক সপ্তাহ সময় দিয়ে আমরা ২০ জানুয়ারি সকাল ৬টা থেকে লাগাতার ধর্মঘটে যাব। ধর্মঘটের সময় দেশে প্রায় নয় হাজার পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরির মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে প্রতি লরিতে (নয় হাজার লিটারে) ডিজেল পরিবহনে বাড়তি ৬৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। পেট্রোল ও অকটেনেও সমপরিমাণ খরচ হচ্ছে।
গত ৩ জানুয়ারি রাতে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম গড়ে পাঁচ থকে সাত টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ওই রাতেই বিতরণ কোম্পানিগুলোর কমিশন তিন থেকে পাঁচ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
