চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয় নিয়ে গাড়ি চালক ও মালিকদের হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগের শেষ নেই:টাকা ছাড়া কোন কাজই হয় না। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, চালক লাইসেন্স ও মালিকানা বদলসহ কোন কাজই বাড়তি টাকা ছাড়া করা যায় না।
শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা একই জায়গায় ৫ থেকে ৭ বছর যাবত্ কর্মরত থাকলেও তাদের বদলি করা হয় না। অসাধু কর্মকর্তাদের কাছে পরিবহন সেক্টরের লোকেরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে গাড়ি চালক ও মালিকদের অভিযোগ। গত রবিবার যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের হঠাত্ বিআরটিএ কার্যালয় ঝটিকা পরিদর্শনে গিয়ে ৩ জন কর্মকর্তাকে বদলি ও ২ জনকে সতর্ক করে দিয়েছেন।
অনেকেই মন্ত্রীর কাছে বিআরটিএ কতিপয় কর্মকর্তাদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন। মন্ত্রী চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে উচ্চমান সহকারী রিয়াজুর রহমান, পরিদর্শক আবদুল হালিম ও রেকর্ড কিপার হারুনুর রশীদকে বদলির নির্দেশ দেন। একই সাথে সহকারী পরিচালক মেজবাহউদ্দিন ও শহীদুল্লাহকে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে সতর্ক করে দেন। বিআরটিএ সূত্র জানায়, সহকারী পরিচালক মেজবাহউদ্দিন চট্টগ্রাম জেলার সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের বিষয়গুলো তদারকি করে থাকেন।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, গাড়ির ফিটেনস নবায়ন ছাড়াই চট্টগ্রামে বছরের পর বছর চলছে প্রায় ২৫ হাজার যানবাহন। একইভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করেনি ৩০ হাজার চালক। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ এসব গাড়ি ও চালক বিভিন্ন সড়কে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। এসব দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। একে অপরের উপর দোষ চাপাচ্ছে। ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে গত ৮ থেকে ৯ মাস ধরে কোন মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে না। বিআরটিএ’র তত্ত্বাবধানে মাসে অন্তত দু’বার ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে।
বিআরটিএ চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী এস. কে বিশ্বাস ইত্তেফাককে বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন নেই। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ যথাসময়ে পাওয়া যায় না। জনবলের সংকট রয়েছে। তাই মোবাইল কোর্ট সঠিকভাবে করা যাচ্ছে না।’
বিআরটিএ সূত্র জানায়, যানবাহন প্রতি বছর এবং চালকের ক্ষেত্রে পেশাদার চালকদের ৫ বছর ও অপেশাদার চালকের ১০ বছর অন্তর অন্তর সার্টিফিকেট নবায়ন করতে হয়। এতে যানবাহনের ক্ষেত্রে নবায়ন ফি হচ্ছে ৯৪৫ টাকা থেকে ৬৪৫ টাকা আর ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পেশাদার এক হাজার ১৫০ টাকা ও অপেশাদার এক হাজার ৯০০ টাকা। কিন্তু চট্টগ্রামের বিআরটিএ জানায়, প্রায় ২৫ হাজার যানবাহন বছরের পর বছর ফিটেনস নবায়ন না করেই বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে। একইভাবে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়া চালক রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। ত্রুটিপূর্ণ এসব গাড়ি ও চালক প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এসব গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাদের সহযোগিতায় পরিবহন খাতে অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ে ফিটেনস নবায়ন করেনি এ ধরনের যানবাহনের মধ্যে রয়েছে ট্রাক ও মিনিট্রাক ১০ হাজার, বাস মিনিবাস ৮ হাজার, প্রাইভেট কার ৫ হাজার ৪০০, অটোরিকশা ২ হাজার ৮০০, টেম্পো ১ হাজার ১০০, পিক-আপ ভ্যান ১৫০, মাইক্রোবাস ও রাইডার ৭০০ এবং অন্যান্য প্রায় ৪০০ যানবাহন। বিআরটিএ আরো জানায়, চট্টগ্রাম অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশন নেয়া বিভিন্ন যানবাহনের সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার। আর লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেশাদার ও অপেশাদার চালক রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার।
