দৌলতপুর কৃষি ব্যাংকের ২৫ কোটি টাকা লোপাট

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২০
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর কৃষি ব্যাংক (তারাগুনিয়া) শাখা থেকে কৃষি ঋণের নামে জাল ও ভুয়া দলিলের মাধ্যমে ঋণ দেখিয়ে প্রায় ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ঐ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দালাল জালিয়াত চক্র। এমনকি পাগলের নামেও ঋণ উত্তোলন করেছে চক্রটি। ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কৃষি ব্যাংক দৌলতপুর শাখায় প্রায় ৪২ কোটি ৪৬ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা বিভিন্ন ঋণ অনাদায়ী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ৬৮ লক্ষ ২ হাজার টাকার কৃষিঋণ। কৃষি ব্যাংকের এই শাখায় জমি-জমা বা স্থাপনার ভুয়া দলিলপত্র মর্টগেজ দেখিয়ে জালিয়াত চক্র প্রায় প্রতিদিনই ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা অর্থের বিনিময়ে ভুয়া খারিজ, দাখিলা, পড়চা সরবরাহ করে ঋণ গ্রহিতা জালিয়াত চক্র ও একাজে নিয়োজিত দালালদের সহায়তা করছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। এ কাজে জড়িত থাকার দায়ে হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী মজিবুল হক পিন্টুকে বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের সুপারভাইজার রুহুল আমিন ঘটনার কথা স্বীকার করে জানান, অনেক তদবিরের কারণে এ রকম কাজ করতে হয়। একাধিক সূত্র জানায়, সবচেয়ে বেশি ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে সমপ্রতি বদলি হওয়া ব্যাংক ব্যবস্থাপক রেজাউল হকের মাধ্যমে। তার সময়ে ব্যাংকের দালাল নামে পরিচিত ঘোড়ামারা গ্রামের সামছুল এবং ব্যাংকের কয়েকজন সুপারভাইজারসহ তারাগুনিয়া ও আশ-পাশের এলাকার ৮/১০ জন দালাল সিন্ডিকেট গঠন করে ঐ ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ভুয়া ঋণের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের কায়ামারী গ্রামের মৃত আব্দুল হান্নানের ছেলে আবুল কালাম দীর্ঘ ৪/৫ বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছে। অথচ তার নাম ও দলিলপত্রে ভুয়া ছবি ব্যবহার করে ব্যাংক সুপারভাইজার ও জালিয়াত চক্র লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত্ করেছে। কোলদিয়াড় গ্রামের ইটভাটা মালিক আবুল কালাম আজাদ একই মর্টগেজ দেখিয়ে তিনটি গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করে দালাল ও ব্যাংক কর্মচারীদের সহায়তায় ১৫ লক্ষ টাকা ঋণ উত্তোলন করেছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, এই ব্যাংকটিতে একই নাম ও কাগজ ব্যবহার করে একাধিক ঋণ উত্তেলনের ঘটনা অহরহ ঘটলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। কৃষি ব্যাংক দৌলতপুর শাখার (তারাগুনিয়া) ব্যবস্থাপক খাদেমূল ইসলাম জানান, তিনি শুনেছেন এই শাখার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী দালাল শ্রেণীর সহায়তায় ঋণ সংক্রান্ত অনিয়ম করেছেন। এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি কৌশলী জবাবে বলেন, কর্তৃপক্ষ চাইলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।