মরণদশায় গঙ্গাচড়ার ঘাঘট নদ। পানিশূন্য হয়ে পড়ায় ওর বুকে আবাদ হচ্ছে ফসল। এই তো সেদিনও ঘর থেকে বের হয়েই শোনা যেতো নদের কলকল ধ্বনি। রং-বেরংয়ের পালতোলা নৌকা সৃষ্টি করতো অপরূপ সৌন্দর্য্য। মাঝি-মাল্লার গানে মুখর থাকতো সারাক্ষণ। মানুষের পদভারে জমে উঠতো নদীর ঘাট। এ সবই এখন শুধু স্মৃতি। কালের আবর্তনে মরে গেছে গঙ্গাচড়ার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘট নদ। নদীর বুকজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। লোকজন চাষাবাদ করছে। নদ শুকিয়ে যাওয়ার কারণে বেকার হয়ে পড়েছে শত শত মত্স্যজীবী। অভিজ্ঞজনের ধারণা নদ খনন করা হলে মত্স্য চাষসহ আবাদী জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা যাবে। কৃষক উপকৃত হবে।
নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার কুজিপাড়া গ্রাম এলাকায় তিস্তার শাখা হিসেবে ঘাঘট নদের উত্পত্তি। ঘাঘট নদ গঙ্গাচড়া উপজেলার পশ্চিম সীমানা দিয়ে নোহালী, আলমবিদিতর ও বেতগাড়ী ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে রংপুর সদর উপজেলা অতিক্রম করে পীরগাছা উপজেলায় প্রবেশ করেছে। নদের আঁকাবাঁকা পথে ঘাঘট ১২০ কিলোমিটার জুড়ে শুকিয়ে গেছে। একসময় পালতোলা নৌকা চলতো, দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসতেন ব্যবসা করার জন্য। নদীপথে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ হতো। সেই নদের শুকনো মৌসুমে পানি প্রবাহ এখন শূন্যের কোঠায়। অথচ বর্ষাকালে ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ঘর-বাড়ি।
স্থানীয় আবুল হোসেন ফটিক, মাহাবুবার রহমান তারা ও বদিরুদ্দিন জানান নদটি খনন করা হলে কৃষকরা উপকৃত হবে বেশি। বাড়বে মত্স্যচাষ।
উপজেলা কানুনগো আব্দুল কাদের জানান, নদী শিকস্তি ও পয়ন্তি আইন অনুসারে ঘাঘট নদের বুকে জেগে উঠা জমি খাসজমির অন্তর্ভুক্ত, যা স্থানীয় লোকজন দখল করে আবাদ করছেন নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ টিটু জানান, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে সরকার নদ খনন করলে কৃষকেরা কৃষিকাজে সুবিধা পাবে। বর্ষাকালে নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ফজলুল হক জানান, ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নেয়ায় নদের গুরুত্ব এখন নেই। সরকার দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে নদটি খনন করলে এলাকার মানুষের উপকারে আসবে।
