‘পুলিশ পদক’ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৯
পুলিশ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ডিসি পর্যায়ের এক ‘বিতর্কিত’ কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ‘পুলিশ পদক’ দেয়ার সুপারিশ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের এই হস্তক্ষেপে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা। জানা গেছে ‘পুলিশ পদক’ দেয়ার জন্য নির্বাচক কমিটি ওই কর্মকর্তার নাম পর্যন্ত সুপারিশ করেনি; কিন্তু ওই কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রভাব খাটিয়ে পদক তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়েছেন। এ ঘটনায় পদকের জন্য নির্বাচিতরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকে ঘোষণা দিয়েছেন ওই ‘বিতর্কিত’ কর্মকর্তাকে পদক দেয়া হলে তারা ‘পুলিশ পদক’ গ্রহণ করবেন না। এ নিয়ে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। কর্মকর্তাদের একজন এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ওই সুবিধাভোগী পুলিশ কর্মকর্তাদের কারণে সরকারের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এমন কাজ সরকারকেও বেকায়দায় ফেলে দেবে। তিনি জানান, ওই কর্মকর্তারা পুলিশ প্রশাসনে ‘খায়রুন বিবি’ নামে পরিচিত। তাদের সীমাহীন দাপট। এদের মধ্যে কেউ কেউ নীতি নির্ধারক মহলকে কুপরামর্শ দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করছে। বিনিময়ে কামিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এই ‘খায়রুন বিবি’ গ্রুপের নেতৃত্বে ডিআইজি ও উপ-পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা রয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর পুলিশ সপ্তাহে পদক দেয়ার জন্য নির্বাচক কমিটি ৬৬ পুলিশ সদস্যকে মনোনীত করে। কিন্তু মন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে আরো এক ‘বিতর্কিত’ কর্মকর্তার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এবার পুলিশ সপ্তাহে ওই ৬৭ জনকে ‘পুলিশ পদক’ দেয়া হবে। আগামী ২২ জানুয়ারি রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ওই পদক দিবেন বলে জানা গেছে। সূত্রটি জানায়, উক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা বেশীর ভাগ সময় মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকেন। সেখানকার কয়েকজন কর্মকর্তার দুপুরের খাবার পর্যন্ত তারা সরবরাহ করেন। তাদের দাপটে অধীনস্থ কর্মকর্তারা কোন কথা বলতে সাহস পান না। পরিস্থিতি এমন পর্যায় পৌঁছেছে যে, অনেক থানার ওসি ও এসআই এসপিদের নির্দেশনা মানতে চান না। পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার এ ব্যাপারে বলেন, থানা পুলিশের চেইন অব কমান্ড কিংবা নির্দেশনা না মানলে এটা এসপির ব্যর্থতা। চেইন অব কমান্ড কিংবা নির্দেশনা না মানলে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। পদক তালিকা পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।