সবাই দেখলো কাতরাতে কেউ এলো না সাহায্যে

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৮
এসিডে পুড়ে খসে পড়লো তরুণীর স্যালোয়ার-কামিজ। পুড়েছে শরীরের ভিন্ন অংশ। বাঁচও, বাঁচাও বলে ছুটোছুটি। এরপর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে জনবহুল রাস্তায় পড়ে গড়াগড়ি। সব মিলিয়ে কেটে যায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট। কিশোর, তরুণ, যুবা, বৃদ্ধ দোকানী আর পথচারী দেখলো এ দৃশ্য; কিন্তু কেউ এলনা তার সাহায্যে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়েটায় রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা চানখারপুলে এ ঘটনা। ঐ তরুণী ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রী। এসিড নিক্ষেপের আগে পাষণ্ডরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে যখম করে। তাকে ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পুরনো ঢাকার কায়েতটুলি ফাঁড়ির ইনচার্জ সাব-ইন্সপেক্টর শাহাবুদ্দিন তরুণীর বরাত দিয়ে জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তরুণীকে জরুরি কথা বলে পূর্ব পরিচিত যুবক মনির উদ্দিন তাকে মোবাইল ফোনে বাসা থেকে ডেকে আনে। এরপর প্রায় জোর করে সাড়ে ১১টার দিকে মনির উদ্দিন ও তার সহযোগী মাসুম তাকে নিয়ে ৭৮/৩ নাজিমউদ্দিন রোড দোতলায় কাজী অফিসে যায়। এসময় কাজী গাজী মাহবুবুর রহমান ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। কাজী অফিসে ঢোকার পর বিয়ের প্রসঙ্গ তুললে মনির উদ্দিনের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায় মনির তাকে এলোপাতাড়িভাবে ছুরিকাঘাত করে। পরে পকেটে বোতল বের করে তরুণীকে লক্ষ্য করে এসিড নিক্ষেপ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এসিডে তরুণীর স্যালোয়ার-কামিজ পুড়ে খসে পড়ে। তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে বাঁচাও বাঁচাও চিত্কার করতে করতে তরুণী কাজী অফিস লাগোয়া একটি ভবনের দোতলায় অবস্থিত হেয়ার ফ্যাশন নামের একটি সেলুনের মধ্যে ঢুকে পড়েন। তিনি সেলুন কর্মচারীদের কাছে পানি আছে কীনা জানতে চান। এসময় সেলুনে থাকা খাবার পানির ২০ লিটারের বেতল তার উপর ঢেলে দেয় সেলুন কর্মীরা; কিন্তু তার শরীরে পানি ঢেলে দেয়ার পর যন্ত্রণার কোনো কমতি ঘটেনি। এ অবস্থায় তরুণী সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে রাস্তায় গড়াগড়ি দিতে থাকেন। তার চিত্কারে ভিড় জমে যায়। ওষুধের দোকানসহ অন্যান্য দোকানিরাও তাকিয়ে তাকিয়ে তরুণীর ছটফটানির দৃশ্য দেখেন; কিন্তু কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। সাব-ইন্সপেক্টর শাহাবুদ্দিন বলেন, প্রায় ২০ মিনিট পর তিনি খবর পেয়ে কয়েকজন কনস্টেবলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এরপর দোকান থেকে পেপারের কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে তরুণীকে ভর্তি করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তিনি আরো বলেন, তরুণীর সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন মনির উদ্দিন কোনো একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করে। তার বাড়িও তরুণীর এলাকার কাছাকাছি। ঢাকায় তার ভাইয়ের বাসায় থেকে পড়াশুনা করেন এ তরুণী। কাজী অফিসের নীচের ওষুধের দোকানের কর্মচারী রায়হান জানান, তিনি একজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলছিলেন। এসময় শুনতে পান কাজী অফিসের ভেতর থেকে বাঁচাও বাঁচাও বলে এক নারীর চিত্কার। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাজী অফিস থেকে নেমে দুই যুবক দৌড়ে আনন্দ বাজারের দিকে পালিয়ে যায়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের আবাসিক সার্জন হরিপদ সাহা জানান, মেয়েটির পিঠে ও ডানহাতে ধারালো অস্ত্রের বেশ কয়েকটি আঘাত রয়েছে। এসিডের কারণে তার শরীরের পনের শতাংশ ক্ষত তৈরি হয়েছে। বংশাল থানা পরির্দশক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাসান জানান, এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় দুইজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। মনির উদ্দিন বি. বাড়িয়া জেলার নাসির নগর থানার বুড়িরচং। পিতা মৃত আবু তাহের। বাসা মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ঐ যুবক প্রায়াই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করতো।