জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হাত থেকে এ দেশের মানুষ মুক্তি চায়। তাদের অত্যাচারে মানুষ আজ অতিষ্ঠ। এজন্য আগামীতে তারা এরশাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। রংপুরের মানুষের ভালোবাসা নিয়ে আমি মরতে চাই। শেষ বয়সে আমার রংপুরের মানুষের কাছে আর কিছুই চাওয়ার নেই। গতকাল মঙ্গলবার রংপুরের কাউনিয়ায় স্থানীয় বালিকা বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল জনসভায় এরশাদ একথা বলেন।
এরশাদ বলেন, আর কোনো জোট নয়, এবার আমি সারাদেশে এককভাবে নির্বাচন করবো। আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন দিয়ে রংপুরের মানুষ কিছুই পায়নি। যদিও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে, তা-ও বর্তমানে শেখ হাসিনার পারিবারিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা হয়েছে। আমি মহাজোটে যোগ দিয়েছিলাম কিন্তু তাদের দেয়া কোনো প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করেনি। তিনি আরও বলেন, ৪ হাজার কোটি টাকার হলমার্ক কেলেংকারি, ডেসটিনির কারসাজিতে অনেক মানুষ আজ সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছে। তাদের কোন বিচার হয়নি। আমার শাসনামলের নয় বছরে এদেশের অনেক উন্নয়ন করেছি, যমুনা সেতু নির্মাণ করে দুই বাংলাকে একত্রিত করেছি। আমি ক্ষমতায় এলে পদ্মা সেতু নির্মাণ করবো। এবার আমাকে আপনারা ভোট দিন এই আমার প্রার্থনা।
তিনি আরও বলেন, হাসিনা—খালেদার শাসন দেখেছেন এদেশের মানুষ, এরা সাধারণ মানুষের কথা কখনো চিন্তা করেন না। তাই আগামীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ভোট দিয়ে দুই নেত্রীর গ্যাড়াকল থেকে এদেশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে। বিশ্বজিত্ হত্যার জন্য তিনি বর্তমান সরকারকেই দায়ি করেন। এরশাদ বলেন, ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের কর্মীদের কার্যকলাপে এদেশের জনগণ অতিষ্ঠ। তাই এই সরকারকে মানুষ আর বিশ্বাস করে না।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাউনিয়া পীরগাছার সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব করিম উদ্দিন ভরসা, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ্ব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মাসুদ চৌধুরী নান্টু, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী, মোশারফ হোসেন প্রমুখ।
