আসন্ন আমেরিকা-চীন শীর্ষ বৈঠক প্রসঙ্গে

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৮

চলতি সপ্তাহে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সে জি ২০ সম্মেলনে যোগদানকালে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করিবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ধারণা করা হইতেছে যে, এই দুই নেতার এইবারের বৈঠকের মধ্য দিয়াই বিশ্ব আরেকটি স্নায়ুযুদ্ধের যুগে প্রবেশ করিবে কিনা তাহা অনেকটাই ফয়সালা হইয়া যাইবে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প ক্ষমতায় আগমনের পর হইতে দুই পরাশক্তির মধ্যকার সম্পর্ক গত অর্ধ-শতকের মধ্যে সর্বনিম্মে নামিয়া আসিয়াছে বলিয়া সকল মহল মোটামুটি একমত হইয়াছেন। বাণিজ্য সম্পর্ককে কেন্দ্র করিয়া মূল বিভেদ চলমান থাকিলেও, সামরিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানাবিধ বিষয়েও বর্তমানে দেশ দুইটি বিপরীত মেরুতে অবস্থান করিতেছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযানে ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে অনেক শক্ত বক্তব্য প্রদান করিয়াছিলেন। বিশেষ করিয়া চীনের বিরুদ্ধে আমেরিকান ব্যবসাগুলি হাতাইয়া লইয়া যাইবার অভিযোগ আনিয়া সাধারণ শ্রমজীবী ভোটারদের তাঁতাইয়া তুলিয়াছিলেন তিনি। ক্ষমতায় আসিবার পরে কিছুদিন পর্যন্ত ট্রাম্পের চীনবিষয়ক অবস্থান লইয়া কেহ কোনো স্পষ্ট ধারণা করিতে পারেন নাই। তবে চলতি বত্সরের শুরুতে খানিকটা স্রোতের বিপরীতেই চীনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেন ট্রাম্প। বিশেষ করিয়া বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে চীন অসমীচীনভাবে লাভবান হইতেছে দাবি করিয়া, একপর্যায়ে চীন হইতে আমদানিকৃত ২৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপ করে আমেরিকা। সামনের বত্সরের পহেলা দিন হইতে এই সকল পণ্যের উপরে ২৫ শতাংশ শুল্ক হার নির্ধারণ করা হইয়াছে। ট্রাম্পের মতে, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই চীনকে বাগে আনা সম্ভব হইবে। গত মাসে উপ-রাষ্ট্রপ্রধান মাইকেল পেন্সের প্রদত্ত একটি বক্তব্যের পর হইতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমেরিকার তরফ হইতে বৃহত্ পরিবর্তন আসন্ন বলিয়া ধরিয়া লওয়া হইয়াছে। উক্ত বক্তব্যে চীন বাণিজ্য উদারীকরণের সুবিধাগুলিকে অপব্যবহার করিয়া বাণিজ্য আগ্রাসনে লিপ্ত হইয়াছে বলিয়া দাবি করা হয়। এই বক্তব্যে শুল্ক, বাণিজ্য কোটা, মুদ্রা ব্যবস্থার উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহার, প্রযুক্তি হস্তান্তর, মেধাসম্পদ চুরিসহ নানান বিষয়ে চীনকে অভিযুক্ত করা হয়। গত সপ্তাহেও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ হইতে ‘অন্যায্য, অযৌক্তিক ও বাজার ধ্বংসকারী’ কার্যক্রমের জন্য চীনকে অভিযুক্ত করা হইয়াছে। চীন যথারীতি আমেরিকার অভিযোগগুলির ব্যাপারে খুব একটা যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করিয়াছে তাহা বলা যাইবে না। তবে এইসকল অভিযোগ যে সহজভাবে লওয়া হইতেছে না তাহা সরকারি ও সরকার-সমর্থিত সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানাইয়া দিয়াছে চীন।

বাণিজ্য-অসমতা প্রশ্নে খুব বেশি কথাবার্তা হইলেও, সামরিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রেও দুই দেশের বিরোধ ক্রমশ গভীর হইতেছে। উদাহরণস্বরূপ, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সংকটের ক্ষেত্রে অধুনা চীনকে সমালোচনা করিতে শুরু করিয়াছে আমেরিকা। আবার দক্ষিণ চীন সমুদ্রে চীনের উপস্থিতির মধ্যে সম্প্রসারণবাদের ছায়া দেখিতেছে দেশটি। এত রকমের অভিযোগ ও অবিশ্বাস মাথায় রাখিয়াই শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠকে বসিবেন। এইক্ষেত্রে পারস্পরিক লাভালাভ নাকি অহমের লড়াই বড় হইয়া উঠিবে, তাহাই হইতেছে মূল কথা।