ফুলবাড়িতে গভীর রাত পর্যন্ত চলে দলিল রেজিস্ট্রি

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪১
সপ্তাহে একদিন অফিস হওয়ায় দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে প্রতি বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত চলছে জমিজমা বেচাকেনা সংক্রান্ত রেজিস্ট্রি সম্পাদনের কাজ। জমি রেজিস্ট্রি করতে গভীর রাত হয়ে যাওয়ায় জমির বেচাকেনার অর্থ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হচ্ছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদেরকে। গভীর রাত পর্যন্ত দলিল রেজিস্ট্রি সম্পাদন হওয়ার সুযোগে অর্পিত সম্পত্তির তালিকা ভুক্ত হওয়া জমিও একটি সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু ভুয়া খারিজের মাধ্যমে ঐসব জমিও কেনাবেচা করে রেজিস্ট্রি করে নিচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাত পর্যন্ত দলিল রেজিস্ট্রি সম্পাদন কাজ চলছে সাব-রেজিস্ট্রারের কামড়ায়। সাব-রেজিস্ট্রারের কামড়ায় একজন ঢুকে রেজিস্ট্রি সম্পাদনের কাজ করলেও রেজিস্ট্রি সম্পাদনের জন্য দরজার বাইরে অপেক্ষায় রয়েছেন আন্তত কুড়িজন ক্রেতা-বিক্রেতা। তারও অধিক রয়েছেন দলিল লেখক সমিতির ওঠানে বিভিন্ন দলিল লেখকদের সাথে দলিল লেখালেখি নিয়ে। অফিস চলাকালীন সময়ে দলিল রেজিস্ট্রি করতে সরকারি ষ্ট্যাম্প, ফি, সেলট্যাক্স দেয়া ছাড়াও অফিস খরচ বাবদ অতিরিক্ত ৩০০টাকা থেকে ৫০০টাকা উেকাচ দিতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদেরকে। এছাড়াও দলিল লেখক সমিতিকেও প্রতিটি দলিলের জন্য প্রকার ভেদে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হচ্ছে। তবে অফিস সময়ের পরে দলিল রেজিস্ট্রি করতে গেলে লেট ফি দিতে হয় ৩০০টাকা। দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মনছুর আলী মন্ডল বলেন, কোন প্রকার চাঁদা নেয়া হয় না। দলিল লেখার জন্য পারিশ্রমিক বাবদ দলিল লেখকরা তাদের একটি নির্ধারিত টাকা নিয়ে থাকেন। সাব-রেজিস্ট্রার মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ঘোড়াঘাট উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত থাকলেও তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে ফুলবাড়ি, বোচাগঞ্জ ও খানসামা উপজেলায়। এ কারণে একদিন করে এখানে অফিস করতে হচ্ছে বলেই সপ্তাহের জমে থাকা দলিলগুলো রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে অনেক সময় রাত হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া দলিল রেজিস্ট্রি ফি বাবদ সোনালী ব্যাংকে জমাকৃত পে-অর্ডার নিয়ে আসতে দেরি হওয়ার কারণেও অনেক সময় দলিল সম্পাদন করতে বিলম্ব হচ্ছে। অর্পিত সম্পত্তির তালিকার কোন গেজেট সম্পর্কে তাকে কোন দিক-নিদের্শনা দেয়া হয়নি। তাই ঐ বিষয়টি তার দেখার বিষয় নয়। অফিসের জনবল সংকটের কারণে ভুয়া খারিজ সম্পর্কে সঠিক যাচাই-বাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অফিসের নামে উেকাচের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।