বাংলাদেশের টেপাখড়িবাড়ি ও ভারতের কুচলিবাড়ি সীমান্ত এলাকায় তিস্তা নদীতে নতুন করে সৃষ্ট চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এই চ্যানেলের কারণে বর্ষাকালে বন্যায় দু’দেশের সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি রোধেই এ পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে উভয় দেশ। এর পরিবর্তে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চড়খড়িবাড়ি থেকে ভারতের কুচবিহার জেলার কুচলিবাড়ি সীমান্ত পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের জন্য দু’দেশের প্রতিনিধি দল যৌথ সভা করেছে। বাঁধের দৈর্ঘ্য হবে দুই হাজার ৬০০ মিটার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার কুচলিবাড়ির জিরো পয়েন্টে গত সোমবার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, তিস্তার ওই নতুন চ্যানেলের কারণে নীলফামারীর টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় বর্ষাকালে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বদলে গেছে দু’দেশের ভৌগোলিক অবস্থা। বৈঠকে বলা হয়, তিন বছর আগে তিস্তা নদীতে চ্যানেলটির সৃষ্টি হয়। চ্যানেলটি বাংলাদেশ একা বন্ধ করলে কাজ হবে না। কারণ ভারতের অংশ থেকে পানি এসে বন্যা হবে। তাই দু’দেশ মিলেই চ্যানেলটি বন্ধ করতে হবে। এতে বন্যা প্রতিরোধ হবে এবং ফসলি জমি রক্ষা পাবে।
সভায় বাংলাদেশের পক্ষে পাঁচ সদস্যের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ আহসান আলী ও ভারতের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কুচবিহার-জলপাইগুড়ি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী এন. সি চ্যাটার্জি। উক্ত সভায় উপস্থিত থাকা নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব রহমান জানান, যৌথভাবে তিস্তার বাম তীরে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বাঁধ নির্মাণে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বাংলাদেশ অংশে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চড়খড়িবাড়ি থেকে ভারতের কুচবিহার জেলার কুচলিবাড়ি পর্যন্ত ৭৯৮ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে দুই হাজার ৬৬০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৬০ মিটার বাংলাদেশ এবং ভারতের কুচলিবাড়ি অংশের ৩০০ মিটার ভারত নির্মাণ করবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মীর সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তিস্তার চ্যানেলটি থাকলে নদীর গতিপথে পরিবর্তন হতে পারে এবং বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি আরো বাড়বে। তাই এটি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাঈনউদ্দিন মণ্ডল জানান, বাংলাদেশ অংশে ২ হাজার ৩৬০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৪ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। এটির অনুমোদন পাওয়া গেলেই বাঁধের কাজ শুরু করা হবে।
