রামগড়ের হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১০ মেম্বারের অনাস্থা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৭
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ৩নং হাফছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাত্ ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন পরিষদের ১০ মহিলা ও পুরুষ সদস্য। রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুধবার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছেন। অনাস্থা প্রস্তাবে অভিযোগ করা হয়, গত একবছর যাবত্ চেয়ারম্যান সদস্য ও সদস্যাদের নিয়ে কোন মাসিক মিটিং করছেন না। পরিষদের কোন সদস্য বা সদস্যাকে না জানিয়ে নিজের খেয়াল-খুশিমতো সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। মেম্বারদের দীর্ঘদিন যাবত্ কোন সন্মানীভাতা দিচ্ছেন না। ভিজিএফ, ভিজিডি, রেশনভোগীদের ১৫-২০ কেজি চাল দিয়ে অবশিষ্ট চাল বিক্রি করে সে টাকা নিজেই আত্মসাত্ করেন। ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ২টি কক্ষ কাউকে না জানিয়ে ভাড়া দিয়ে টাকা আত্মসাত্ করছেন। গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প (টি,আর এবং কাবিখা ) বরাদ্দ সমবন্টন না করে নিজেই অর্ধেকাংশ রেখে বিক্রি করেন। পরিষদের কোন মেম্বারকে না জানিয়ে এসেসমেন্ট তালিকা তৈরি শুরু করেছেন এবং ইউপির বাসিন্দাদের পরিবারপ্রতি ৮০ টাকা হারে কর আদায় করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাত্ করেছেন। ২০১৩-১৪ সালের নতুন ভিজিডি কার্ড করে দেয়ার সুবাদে দালালের মাধ্যমে কোন কোন পরিবার থেকে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে গত একবছরে পর পর দু’জন ইউপি সচিবকে বদলি করা হয়। এছাড়া গুচ্ছগ্রামের রেশনের চাল-গম আত্মসাতের ঘটনাও রয়েছে। গত ২ জানুয়ারি সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা উক্রাচিং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। গত সোমবার এ অনাস্থা প্রস্তাব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পেশ করেন মেম্বাররা। এর প্রেক্ষিতে গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারকে প্রধান করে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোপাল চন্দ দাস বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করার পর থেকে ইউপি মেম্বাররা এখন অফিসে যাচ্ছেন না। চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষও প্রায় সময় বন্ধ থাকে। ফলে বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা লোকজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।