গাইবান্ধায় ৯টি ট্যাঙ্ক স্থাপন হলেও বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে না মানুষ

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১২
গাইবান্ধার পল্লী এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানির জন্য অগভীর নলকূপ কিংবা পুকুর-কুয়াই একমাত্র ভরসা। কিন্তু বেশিরভাগ নলকূপের পানিতে অতিরিক্ত আয়রণ কিংবা আর্সেনিক বিদ্যমান। এই বাস্তবতায় কয়েক বছর আগে গাইবান্ধার পাঁচ উপজেলায় নয়টি পানির ট্যাঙ্ক নির্মাণ করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেস্তে গেছে। ট্যাঙ্কগুলো মানুষের কোন কাজে আসছে না। গাইবান্ধা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিস সূত্র জানায়, ২০০৮-২০০৯ সালে গাইবান্ধা সদর দু’টি, গোবিন্দগঞ্জে দু’টি, পলাশবাড়িতে দু’টি, সাদুল্লাপুরে একটি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় দু’টি করে মোট নয়টি পানির ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৫৬ লাখ টাকা। অর্থ সহায়তা দেয় দাতাসংস্থা হাইসাওয়া ও ডানিডা। সে সময় প্রতিটি ট্যাঙ্কের আশপাশে ৩০-৪০টি বাড়িতে পানির সংযোগ, ট্যাপকল স্থাপন করা হয়। কিন্তু- দুই-তিনদিন পরই পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত চারবছর ধরে ট্যাঙ্কগুলো অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশুদ্ধ পানির জন্য ট্যাঙ্কগুলো স্থাপন করা হলেও এগুলো থেকে সব উপজেলায় সরবরাহ করা পানিতে আয়রণযুক্ত পানি পাওয়া যায়। ফলে এই কর্মসূচি ভেস্তে যায়। গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের উত্তর বারুইপাড়া ও ঠাকুরেরদীঘি গ্রামে ২০০৮ সালে স্থাপিত হয় দু’টি পানির ট্যাঙ্ক। প্রতিটি ট্যাংকের ধারণ ক্ষমতা ২৫ হাজার লিটার। উত্তর বারুইপাড়া গ্রামের পানির গ্রাহক তবনী চন্দ্র রায়, সুরেন্দ্র চন্দ্র রায় ও আব্দুর রশিদ জানান, ২০০৮ সালে ট্যাঙ্ক নির্মাণের পরই তাদের বাড়িতে পানির সংযোগ দেয়া হয়। কিন্তু প্রথমদিনই পানিতে প্রচুর আয়রণ ধরা পড়ে। পরে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বরাবরে অভিযোগ দেয়া হলে তিনদফা নতুন করে পাইপ বসানো (বোরিং) হয়। তারপরও কলে আয়রণযুক্ত পানি আসে। একই গ্রামের গ্রাহক গীতা রানী বলেন, হামারঘরে বাড়ির কাচে নলকূপ নাই। ‘পামপের পানিত খালি আয়রণ। তাই সগলে পানি নেওয়া বনদো (বন্ধ) করলে পাম বনদো (বন্ধ) হয়া যায়। পার্শ্ববর্তী ঠাকুরেরদীঘি গ্রামের গ্রাহক সন্দ্বীপ কুমার জানান, এই ট্যাঙ্ক থেকে তাদের গ্রামের ৪০ জন পানির সংযোগ নেয়। কিন্তু বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ আয়রণের অজুহাতে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখে। কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে টালবাহনা করছেন। এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নূর ইসলাম জানান, পানিতে আয়রণ থাকায় এসব ট্যাঙ্কের পানি কেউ ব্যবহার করছেন না। তাই এগুলো অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া এটি একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি। এসব ট্যাঙ্ক আয়রণমুক্ত করে চালু করতে প্রতিটি ট্যাঙ্কের জন্য আরো ৩০ লাখ করে টাকার প্রয়োজন। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এগুলো চালু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।