ভোটার তালিকার হালনাগাদ কার্যক্রমে প্রতি জেলায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে পুরুষ ভোটার। নতুনভাবে নিবন্ধনকৃত মোট ভোটারের ৬০ শতাংশই পুরুষ। সবচেয়ে বেশি পুরুষ ভোটার বেড়েছে ফেনী জেলায়। এখানে নিবন্ধনকৃত মোট ভোটারের প্রায় ৭০ শতাংশই পুরুষ। এরপরে যথাক্রমে ভোটার বেড়েছে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে। অন্যদিকে ৬৪টি জেলার প্রতিটিতেই কমেছে নারী ভোটার সংখ্যা। পুরুষ ভোটার বৃদ্ধির এই হার ২০০৮ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, ২০১০ সালের হালনাগাদ এবং জনসংখ্যার হিসাবের সঙ্গে অসামঞ্জস্য। আদমশুমারীতে নারী-পুরুষ সমান হলেও ভোটারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভারসাম্যহীন।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ও ভোটার তালিকা প্রকল্পের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আখতারুজ্জামান সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যে তথ্য পেয়েছেন তাই খসড়া আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি ছিল না। বৃহস্পতিবারই ছিল আপত্তি ও সংশোধনী দাখিল করার শেষ সময়। আগামী ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকায় নিবন্ধনকৃত মোট ৬৯ লাখ ৫৬ হাজার ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৪১ লাখ ৪৭ হাজার। আর নারী ভোটার রয়েছে ২৮ লাখ ৯ হাজার। নারীর চেয়ে পুরুষ ভোটার বেশি ১৩ লাখ ৩৭ হাজার।
খসড়া ভোটার তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফেনী জেলায় মোট ৭৬ হাজার ৭২৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৩ হাজার ২৯৬ আর নারী ভোটার ২৩ হাজার ৪২৭। শতকরা পুরুষ ভোটার ৬৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ, নারী ভোটার ৩০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এছাড়াও হালনাগাদকৃত ভোটারের মধ্যে লক্ষ্মীপুরে পুরুষ ভোটার ৬৬ শতাংশ, চাঁদপুরে ৬৬ শতাংশ, নোয়াখালীতে ৬৬ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৬ শতাংশ, ব্রাহ্মবাড়িয়ায় ৬৪ শতাংশ, মুন্সীগঞ্জে ৬৪ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৬৩ শতাংশ, টাঙ্গাইলে ৬৩ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশনও পুরুষ ভোটার বৃদ্ধির বিষয়টি অস্বাভাবিক বলে মনে করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা ঠিকমতো বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেননি। এছাড়াও তথ্য গোপন করে অনেক পুরুষ একাধিক জায়গায় ভোটার হতে পারে। তবে এবারের ভোটারের আপত্তি গ্রহণের সময় বিভিন্ন নির্বাচনী অফিসে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। কেউ কেউ ভোটারের নিবন্ধন করলেও ছবি তুলেননি, আবার অনেকের নিজ বা পিতা-মাতার নামের বানানও ভুল আসে। জনসংখ্যার হিসাবের দিক থেকেও হালনাগাদের এই তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়। সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যা ১৪ কোটি ৯৬ লাখের বেশি। এর মধ্যে নারী ৭ কোটি ৪৭ লাখ এবং পুরুষ ৭ কোটি ৪৯ লাখ।
২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো তৈরি হওয়া ছবিসহ ভোটার তালিকায় পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যাই ছিল বেশি। মোট ভোটার ছিল ৮ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৮। এর মধ্যে নারী ভোটার ৪ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৯ এবং পুরুষ ভোটার ৩ কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৫৪৯। নারী ভোটারের সংখ্যা ১৪ লাখ ১৩ হাজার বেশি ছিল। এরপর ২০১০ সালের হালনাগাদে ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ৫৭ লাখে। মোট ভোটার বাড়ে ৪৭ লাখের মতো। এর মধ্যে নারী ভোটার ছিল ২১ লাখ এবং পুরুষ ভোটার ২৬ লাখের মতো। সব মিলিয়ে মোট ভোটারের মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৩৩ লাখ এবং পুরুষ ছিল চার কোটি ২৩ লাখের মতো।
২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তাদেরকে এবারের হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। চারটি ধাপে গত বছরের ১০ মার্চ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়। খসড়া ভোটার তালিকার ব্যাপারে দাবি-আপত্তি জমা দেয়ার সময় গতকাল শেষ হয়েছে। আপত্তি নিষ্পত্তি করা হবে ২২ জানুয়ারির মধ্যে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩১ জানুয়ারি।
