শীতকালেও লোডশেডিংয়ের কবলে চট্টগ্রাম

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৪
শীতের মৌসুমেও চট্টগ্রাম নগরী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে। চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুত্ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮/৯ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। চট্টগ্রামে এখনো বোরো মৌসুম শুরু হয়নি। দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে চট্টগ্রামে বোরো মৌসুম পরে শুরু হয়। কিন্তু তার আগেই শহরে ও গ্রামে সমানতালে চলছে লোডশেডিং। পিডিবি জানায়, চট্টগ্রামে শীত মৌসুমে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। আর বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে দিনের বেলায় বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে। এলাকা ভেদে ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর পর আবার অনেক এলাকায় তার চেয়ে বেশি সময় লোডশেডিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে শিল্প-কারখানায় উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ যাবত্ ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে। এতে শিল্প-কারখানায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামের অধিকাংশ বিদ্যুত্ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামে বিদ্যুত্ সরবরাহের যে ন্যাশনাল গ্রিড রয়েছে তার ধারণ ক্ষমতাও কম। তাই ইচ্ছে করলে ন্যাশনাল গ্রিডের মাধ্যমে চট্টগ্রামে সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না।’ মাঠ পর্যায়ের পিডিবি’র কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি এতোই নাজুক সামাল দেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। পিডিবি কালুরঘাট বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম মৃধা ইত্তেফাককে জানান, ‘মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ বিদ্যুত্ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। শিল্প-কারখানায় ভোল্টেজ ৩২-৩৩ থেকে ২৮-২৯ কেভিতে নেমে আসায় কারখানায় মেশিন চালানো যাচ্ছে না।’ খুলশী বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন জানান, ‘দৈনিক ৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার স্থলে ১৫/১৬ মেগাওয়াটের বেশি বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের বেলায় শিল্প-কারখানা, দোকানপাট ও আবাসিক গ্রাহক একসাথে বিদ্যুত্ ব্যবহারের কারণে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।’ পিডিবিসূত্র জানায়, গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ৪টি ইউনিট গত কয়েক মাস বন্ধ রয়েছে। কাপ্তাই বিদ্যুত্ কেন্দ্রে লেকে পানির স্তর কমে যাওয়ায় ৫টি ইউনিটের মধ্যে দিনের বেলায় একটি ও সন্ধ্যায় ৩টি ইউনিটে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হচ্ছে। কাপ্তাই বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ২২০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতা স্থলে ১৪০ মেগাওয়াট উত্পাদন হচ্ছে। অন্যদিকে হাটহাজারী, দোহাজারী ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক দু’টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র সন্ধ্যায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার বেশি চালানো হয় না। এতে দৈনিক ২০০ মেগাওয়াটের স্থলে ১৩০ থেকে ১৪০ মেগাওয়াট উত্পাদন করা যায়। আর জুলধায় একটি বেসরকারি বিদ্যুত্ কেন্দ্র থেকে ১০০ মেগাওয়াট, শিকলবাহায় অপর একটি থেকে ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে।