সামাজিক যোগাযোগ সাইট নির্ভর গেম ফার্মভিল এবং সিটিভিল-এর কথা সবারই জানা আছে, বিশেষ করে যারা ফেসবুক ব্যবহার করে গেমস খেলেন তাদের জানার কথা। অবশ্য যারা খেলেন না, তারা অন্যদের কাছ থেকে পাওয়া নটিফিকেশনের কারণে এই গেমসগুলোর সম্পর্কে জানেন। সম্প্রতিই এই গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিংগা তাদের নিজস্ব সার্ভারের মাধ্যেমে গেম সুবিধা দেবার নেটওয়ার্ক খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ফলে আমাদের প্রিয় গেমটি খেলতে আর ফেসবুক, গুগল প্লাস এবং মাইস্পেস জাতীয় সাইটগুলোকে ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না। বর্তমানে জিংগার এই অনলাইন ভিত্তিক গেমগুলোর নিয়মিত মাসিক খেলোয়াড়ের সংখ্যা প্রায় ২০০ মিলিয়ন। প্রতিষ্ঠানটি তার আয়ের ৯৫ শতাংশই করে থাকে ফেসবুকের মাধ্যমে। জিংগা আয় করে সাধারণত অনলাইন বিজ্ঞাপন এবং গেমের মধ্যে থাকা ভার্চুয়াল জিনিসপত্র বিক্রয় করে। এই আয়ের ৩০ ভাগ ফেসবুক নিয়ে নেয় বলে জানিয়েছে এই অবকাঠামোর নির্ভর করে যে সকল গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে তারা। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে তাদের ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এবং এ মাসের শেষ নাগাদ গেমগুলো তাদের সাইট থেকে খেলা যাবে বলে জানিয়েছে। প্রথমদিকে খেলোয়াড়েরা পাবে জিংগার সবচেয়ে জনপ্রিয় পাঁচটি গেম খেলার সুযোগ। তবে ব্যবহারকারীদেরকে এখনও ফেসবুক আইডি ব্যবহার করেই লগ ইন করতে হবে বলে জানিয়েছে জিংগা। জিংগা মনে করছে এর ফলে ব্যবহারকারীরা তাদের ফেসবুক প্রোফাইল পেজটিকে ত াদের গেম প্রোফাইল থেকে আলাদা রাখতে সক্ষম হবে এবং এর মধ্যে দিয়ে গেমারদের সাথে জিংগার একটি বিশেষ সম্পর্ক সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি তাদের ওয়েবপেজে অন্য প্রতিষ্ঠানের গেমও খেলতে দিবে বলে জানিয়েছে। এ ব্যাপারে তারা রো স্যাম বো এবং মোবসায়েন্সের সাথে চুক্তি বদ্ধ হয়েছে। এই দুইটি প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের উডল্যান্ড হিরোজ এবং কফি বার-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
ফার্মভিল, সিটিভিলের মতো গেম এখন থেকে ফেসবুকে নয়, খেলতে হবে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিংগার নিজস্ব সাইট জিংগা ডট কম-এ। সাইটটিতে আপাতত ফেসবুক, গুগল প্লাস এবং মাইস্পেসে থাকা ওয়ার্ডস উইথ ফ্রেন্ডস, সিটিভিল, ক্যাসল ভিল, হিডেন ক্রোনিকল ও জিংগা পোকার যুক্ত করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে জিংগার অংশীদার হিসেবে কাজ করবে গেম নির্মাতা মবসায়েন্স, রো শাম বো এবং সাভা। তবে এ উদ্যোগের ফলে ফেসবুকের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি ঘটছে না বলে জানিয়েছে জিংগার নতুন নির্বাহী মার্ক। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীরা জিংগার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। নতুন সাইটের খবরে জিংগার শেয়ারের দাম ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে জানা গেছে। জিংগার বর্তমান সদস্যসংখ্যা ২০ কোটির বেশি।
২০০৯ সালে জিংগায় যোগ দিয়েছিলেন শেগাল। জিংগার কাফে ওয়ার্ল্ড গেম তৈরির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এ ছাড়া শ্রেক জিংগার হিডেন ক্রোনিকল গেমটির তত্ত্বাবধান করতেন। বর্তমানে দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জিংগা। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি এর মোট কর্মীর ৫ শতাংশ ছাঁটাই করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জিংগা ছাড়ছেন। এর আগে জিংগা ছেড়েছিলেন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ডেভিড ওয়েনার। তিনি ফেসবুকে যোগ দেন। এ ছাড়া মাইক গুপ্তা জিংগার ছেড়ে টুইটারে যোগ দিয়েছেন। জিংগা আরেক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বর্তমানে আমরা স্বল্পমেয়াদি কিছু সমস্যা মোকাবেলা করছি। দ্রুত এ সমস্যা কাটিয়ে উঠব।’
শুরুর গল্প : ডেভিডের হাত ধরে ছোট একটি ধারণা থেকে শুরু হয় জিংগার পথ চলা। গেমস পাগল ডেভিড ওয়েনার অনলাইনে বন্ধুদের সাথে গেম খেলার কথা ভেবে ডেভেলপমেন্ট শুরু করেছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তার মনে হয়, এই কাজটি তিনি আরও বড় পরিসরে করতে পারেন। ব্যস, শুরু হয়ে গেল তার কাজ। তার সাথে ছিলেন কয়েকজন বন্ধু। সবার সাথে মিলে দাঁড় করালেন জিংগা কোম্পানি। অবস্থা ভালো দেখে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল ফেসবুক। ডেভিডও তার গেমগুলোর জন্য ভালো একটি প্ল্যাটফর্ম পেলেন। এভাবেই চলা শুরু করে জিংগা।
