গাইডলাইন

হাই প্রফেশনালদের কাতারে আসতে

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:০৯
তরুণ শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর ভাবনায় পড়ে যায় কোথায় কী বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করবে, কীভাবে হাই প্রফেশনাল হওয়া যাবে তা নিয়ে। এদিক দিয়ে পুরো পৃথিবীজুড়ে যে ক’টি পেশা তরুণদের মনে সর্বাধিক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে তার অন্যতম প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং। পৃথিবীব্যাপী কর্মক্ষেত্রের ব্যাপ্তি, উচ্চ বেতন, সামাজিক মর্যাদার দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে অ্যাকাউন্টিংয়ের কর্মক্ষেত্রগুলো। প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিংয়ের মধ্যে রয়েছে তিনটি বিষয় এসিসিএ, সিএটি, এফআইএ। এটি একটি গ্লোবাল প্রফেশনাল কোর্স। যার ফলে পুরো বিশ্বজুড়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার ও চাকরির সুযোগ রয়েছে। এ দেশে এই কোর্সে সর্বাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজে। এসিসিএ কোর্সটি সিএ, আইসিএমএ, সিআইএমএ, সিপিএ প্রভৃতির সমমানের। সিএ এবং এসিসিএর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো—সিএ স্থানীয় কারিকুলাম আর এসিসিএ হচ্ছে ব্রিটিশ কারিকুলাম। সাধারণত বিবিএ’র জন্য ৪ বছর এমবিএ’র জন্য ২ বছর অর্থাত্ প্রায় ৬-৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়। একই সাথে এ বিষয়ে পড়তে অনেক খরচ হয়। কিন্তু এসএসসি ও এইচএসসি’র পর যেকোনো শিক্ষার্থী ৪-৫ বছরে আন্তর্জাতিক মানের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে পারে। একই সাথে অপেক্ষাকৃত অনেক কম খরচে সিএটি, এসিসিএ সম্পন্ন করা যায়। এই কোর্স যথেষ্ট সহজ। এ ছাড়া বাংলাদেশের ব্যাচেলর ডিগ্রির সমমান বিএসসি অনার্স ইন অ্যাপ্লাইড অ্যাকাউন্টিং সম্পন্ন করা যায় তিন বছরে। ফাউন্ডেশন ইন অ্যাকাউন্টেন্সি হচ্ছে এসিসিএ’র এন্ট্রি লেভেলের সুট অব কোয়ালিফিকেশনস, যা থেকে শিক্ষার্থী পূর্বের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চমত্কার কোর্স বেছে নিতে পারে। যারা একেবারেই এন্ট্রি লেভেল থেকে শুরু করতে চায় তাদের এফআইএ’র ইন্ট্রোডাক্টরি সার্টিফিকেট লেভেল থেকে শুরু করতে হয়। অন্যদিকে এইচএসসি বা ও-লেভেল শেষে এফআইএ-তে ভর্তি হয়ে সিএটি সম্পন্ন করা যায়। আবার এ-লেভেল বা যেকোনো বিভাগ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি করা থাকলে সরাসরি এসিসিএ ক্লাসে ভর্তি হওয়া যায়। তবে কারও অনার্স, মাস্টার্স, সিএ, আইসিএমএ কোয়ালিফিকেশন থাকলে এ ক্ষেত্রে ৯টি বিষয় পর্যন্ত অব্যাহতি পেতে পারে। এই বিষয়ে আরও জানতে যোগাযোগ করতে পারেন ৮১৪১৬০১, ০১৭৩৩০২৭৫২১/৫ এই নম্বরে। এর পরীক্ষা পদ্ধতি যথেষ্ট সহজ। বছরে জুন ও ডিসেম্বরে দুইবার ব্রিটিশ কাউন্সিলে একসাথে একটি থেকে চারটি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া যায়। সাধারণ পদ্ধতি ছাড়াও এসিসিএ ও সিএটি’র কম্পিউটার বেজড পরীক্ষা পদ্ধতি আছে। এটি এসিসিএ’র প্রথম ৩টি পেপার ও সিএটি’র প্রথম ৪টি পেপারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে কম্পিউটার বেজড পরীক্ষা বছরের যেকোনো সময় যেকোনো দিন হতে পারে। যদি কেউ একটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয় তবে তাকে শুধু ওই বিষয়েই পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে হয়। এসিসিএ বিষয়ে ১০০ নম্বরে পরীক্ষার্থী ৫০ পেলেই পাস করে। সিএটি, এসিসিএ কোর্সে ডিসেম্বরে পরীক্ষা দিতে চাইলে ১৫ আগস্টের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় আর জুনে পরীক্ষা দিতে হলে আগের বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এই কোর্সে ভর্তির আগে শিক্ষার্থীর উচিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা, কাঠামোগত অবস্থান, ফাইন্যান্সিয়াল ক্যাপাসিটি, শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, কম্পিউটার ল্যাব সুবিধা, ইন্টারনেট, নিজস্ব সফটওয়্যার, গ্রুপ স্টাডি করার মতো লাইব্রেরি ও পর্যাপ্ত আপডেট বই, সুন্দর পরিবেশ, সিকিউরিটি এবং সর্বোপরি সাফল্যের অবস্থান দেখা। এ ধরনের সব সুবিধা রয়েছে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজে। প্রতিষ্ঠানটিতে সিবি ব্যাচের পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নিয়মিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া এদের রয়েছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্যে স্কলারশিপের ব্যবস্থা। যোগাযোগ :বাড়ি-৫১, রোড ১০/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা।