প্রাইভেট শিক্ষকদের না বলার শপথ নিল মোহাম্মদপুরস্থ কুইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। আর এই সুবর্ণ সুযোগটি তারা পেয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষের কিছু দূরদর্শী পরিকল্পনা তথা উদ্যোগের প্রেক্ষিতে। কর্তৃপক্ষ প্রথম থেকেই এই স্কুল বা কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতে প্রাইভেট শিক্ষকদের দ্বারস্থ হতে না হয়, সেভাবেই অতিরিক্ত সময় ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে পরিপূর্ণ যত্নের সাথে পড়াচ্ছেন। নির্ধারিত ক্লাস ছাড়াও এখানে অপেক্ষাকৃত অমনোযোগী তথা দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে পাঠদানের বিশেষ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। প্রাইভেট টিচিংয়ের বিকল্প এই ব্যবস্থায় মেধাবী শিক্ষার্থীরাও বাড়তি সুযোগ গ্রহণ করে উপকৃত হতে পারে। এখানে নিয়মিত ক্লাসের বাইরে রয়েছে বিকল্প ও মেকআপ ক্লাসের ব্যবস্থা। ২০১১-এর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এই কলেজের ১৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩৮ জনই পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৭ জন। এটিই ছিল কলেজটির প্রথম ব্যাচ। বৃহত্তর মোহাম্মদপুর জোনে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় বৃহত্তম ফলাফল করেছে এই কলেজ। এদের আগে রয়েছে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ও সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিস্তারিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়; ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ৬৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬৪৪ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫০ জন। সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩৫৪ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে-৯৫ জন। আবাসিক/ অনাবাসিক এই কলেজটি ২০০৮ সালে ১৪০ জন ছাত্র- ছাত্রী নিয়ে তাদের শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করে। এখানে গরিব মেধাবীদের জন্য রয়েছে স্পেশাল স্কলারশিপের ব্যবস্থা। ফলে ওদেরকে অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে হয় না, ওদের ভাবনা কেবল পড়াশোনা। এখানে কর্মরত আছেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান, অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ একদল শিক্ষকবৃন্দ, আছে শিক্ষার আধুনিক সব উপকরণ, চমত্কার পাঠদান পদ্ধতি, উন্নত লেকচার শিট এবং কঠোর নিয়মানুবর্তিতা। মোহাম্মদপুর আদাবরের মূল এভিনিউ ঘেষা কুইন্স কলেজের বিশাল ভবনটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। যেখানে আছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত খোলামেলা ছিমছাম পাঠকক্ষ। বিজ্ঞান শাখার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে পদার্থ, রসায়ন ও জীব বিজ্ঞান বিষয়ের আধুনিক ল্যাব, লাইব্রেরিসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা। এখানে পাঠ পরিকল্পনা করা হয়েছে শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের নির্ধারিত সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বাস্তব ও নিখুঁতভাবে। যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিলেবাস সম্পন্ন করা যায়। একই সাথে প্রতিটি পাঠ্য বিষয়কে সহজবোধ্য ও মানসম্মত করার লক্ষ্যে লেকচারশিট প্রদান করা হয় এবং বোর্ড প্রদত্ত সিলেবাসকে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরকে তিনভাগে ভাগ করে টার্ম অনুযায়ী প্রতিদিনের ক্লাস পরিচালিত হয়। কোনো বিষয়ে পাঠদানের পূর্বেই শিক্ষার্থীদের এ প্লাস পাওয়ার উপযোগী প্রশ্নব্যাংক ও সমাধান দেওয়া হয়। এখানে ক্লাস নেওয়া হয় প্রজেক্টর ও কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই কুইন্স কলেজে শুরু হয় নাইট ক্লাস। নাইট ক্লাস কনসেপ্টটি নতুন না হলেও অন্যান্য নাইট কলেজ থেকে এর ভিন্ন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে; এটা দ্বিতীয় শিফটের কোনো নৈশ ক্লাস বা কলেজ নয়, দিবা শিফটের ছাত্র-ছাত্রী বিশেষ করে আবাসিকদের রাতের পড়া শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে যত্নের সাথে পড়ানো হয়। এখানে চাইলে অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করতে পারবে বিনামূল্যে। এ বিষয়ে আরও জানতে কথা বলতে পারেন ৮১২৬৯১১, ০১৭২৭০১১৮৩৮ এই নম্বরে। ভিসা ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত এই স্কুল অ্যান্ড কলেজটি ইতোমধ্যেই অভিভাবকদের দৃষ্টি কেড়েছে তাদের ব্যতিক্রমী বিভিন্ন শিক্ষাদান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এদের পাঠ পরিকল্পনার দিকে তাকালে কিছু বিশেষত্ব অবশ্যই চোখে পড়ার মতো। যোগাযোগ :প্লট-৮৩৬, রোড-২, আদাবর বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
