ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম আমতৈল। এখানে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এরা দিন আনে দিন খায়। একটি অজপাড়া গাঁ। বেশীর ভাগ মানুষ মত্স্যজীবী। অবহেলিত ও অনুন্নত গ্রাম। গ্রামটির অবস্থান সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নে। উপজেলা সদর থেকে আমতৈল গ্রামের দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। লোকসংখ্যা ১৮ হাজারেরও বেশি। দুঃখজনক হলেও সত্য গ্রামের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে খোলা পায়খানা ব্যবহার করে আসছে। স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার নেই বললেই চলে এ গ্রামে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে গ্রামে রোগ ব্যাধি তাদের নিত্যসঙ্গী। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আমতৈল গ্রামে এখনো প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার খোলা পায়খানা ব্যবহার হচ্ছে। ফলে এ গ্রামের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে মারাত্মকভাবে। এ গ্রামের অনেক মানুষ পানিবাহিত রোগে ভোগছে। শিশুরা প্রায়ই ডায়রিয়া, জন্ডিস, খাদ্যে বিষক্রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বড়দের বেলায়ও একই সমস্যা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, হাসপাতালে বেশির ভাগ রোগী আসে আমতৈল গ্রাম থেকে। প্রতিদিন এ গ্রামের মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করার মত। এ গ্রাম থেকে হাসপাতালে যে সব রোগী আসে তাদের বেশীর ভাগের সমস্যা খোলা পায়খানা ব্যবহার সম্পর্কিত। এ সমস্যা তাদের পুরনো।
আমতৈল গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির সীমানা ও খালের পাশে বাঁশের তৈরি খোলা পায়খানা ব্যবহার করা হচ্ছে। ময়লা ও পানি নিষ্কাশনে নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এসবের মধ্য দিয়েও বসবাস করছেন গ্রামের মানুষ। এছাড়া এ গ্রামে বিশুদ্ধ পানির অভাব তো রয়েছেই।
এ ব্যাপারে মাছ ব্যবসায়ী আমতৈল গ্রামের নূর মিয়া বলেন, গ্রামের বেশীরভাগ মানুষ দরিদ্র। যার কারণে খোলাপায়খানা ব্যবহার করে থাকেন। তিনি স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। ফজিল মিয়া বলেন, গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ মত্সজীবী। অভাবের কারণে স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে পারে না।
স্থানীয় রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার খান বলেন, দুইশ পরিবারের মধ্যে ৫টি পরিবারে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নেই। যার কারণে এখানকার মানুষের রোগে ভোগতে হয় প্রায় সারা বছর। তাছাড়া পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে মারাত্মকভাবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার কিশোয়ার পারভীন জানান, আমতৈল গ্রামে স্যানিটেশনের ব্যবস্থা দরকার। স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহার না করায় এ গ্রামের বেশীর ভাগ মানুষ ডায়রিয়া, আমাশয় ও জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসে। তিনি স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহার করার জন্য আমতৈল গ্রামের মানুষকে আহবান জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোনামনি চাকমা বলেন, স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা আমতৈল গ্রামে খুবই কম। ফলে গ্রামের মানুষ সারা বছরই বিভিন্ন রোগে ভোগে থাকেন। তিনি বলেন, সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করবেন বলে তিনি জানান।
