নোবেল প্রাপ্তির শতবর্ষ

শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্র উত্সব

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১২
‘গীতাঞ্জলী’ কাব্যগ্রন্থের জন্য বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল বিজয়ের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার কবির স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে দিনব্যাপী ‘গীতাঞ্জলী ১০০’ শিরোনামে বসেছিল ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের কবি, শিল্পী ও সাহিত্যিকদের মিলনমেলা। এই রবীন্দ্র উত্সবে কুঠিবাড়ির উন্মুক্ত মঞ্চে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, বই মেলা ও পিঠা উত্সবসহ নানা আয়োজনের অনুষ্ঠানে ভারত ও বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, গুণী শিল্পী-সাহিত্যিক ও রবীন্দ্র ভক্তসহ উত্ফুল্ল দর্শক-শ্রোতার সরব উপস্থিতিতে কুঠিবাড়ি চত্বর যেন মহোত্সবের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। বাংলাদেশের অতন্দ্র একাত্তর ও ভারতের ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ যৌথভাবে দুই দিনব্যাপী ‘গীতাঞ্জলী ১০০’ শিরোনামে রবীন্দ্র উত্সবের আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান আজ শনিবার ঢাকায় বাংলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত হবে। কুষ্টিয়ার শিলাইদহে গতকাল উদ্বোধনী দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক ও খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অতন্দ্র একাত্তরের আহবায়ক কবি বেলাল চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক, রবীন্দ্র গবেষক অধ্যাপক সনত্কুমার সাহা, ভারতের পশ্চিম বাংলা সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা শুভ প্রসন্ন ভট্টাচার্য, ত্রিদ্বিব চট্টপাধ্যায় ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় উপ-হাই কমিশনার সন্দ্বীপ চক্রবর্তী, কবি বীথি চক্রবর্তী, কুষ্টিয়ার ডিসি সৈয়দ বেলাল হোসেন, পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গহওর রিজভী, অ্যাটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলম ও সাংবাদিক আবেদ খান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা, গান, সাহিত্য ও কাব্যগ্রন্থে মানবতা প্রেম-ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া যায়। মানবতার পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হলে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য চর্চা করতে হবে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, নান্দনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান ও গল্প। তিনি ছিলেন বিশ্ব কবি, মানবতার কবি ও বাঙ্গালির কবি। আলোচকরা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহের নিভৃত পল্লীতে বসেই ‘গীতাঞ্জলী’ কাব্যগ্রন্থের বেশিরভাগই রচনা করেন। আর সে কারণেই নোবেল বিজয়ের শতবর্ষ পূর্তিতে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পালন করা শুরু হলো কবির স্মৃতিময় শিলাইদহে। বক্তারা আরো বলেন, সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতির কোন ভৌগোলিক সীমানা নেই, আমার বিশ্বাস করি রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-জীবনানন্দ-লালন অবিভাজ্য। আমাদের প্রয়াস ভারত ও বাংলাদেশ এই দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অধিকারী মানুষের বন্ধনকে সুদৃঢ় করার জন্যই শুধু নয়, বরং রবীন্দ্রনাথ তথা বাংলাকে দুই দেশের মানুষের অন্তরের গভীরে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসও বটে। শীত উপেক্ষা করে গতকাল সন্ধ্যায় গানের অনুষ্ঠানে দর্শক শ্রেতাদের ঢল নামে। ভারতের শিল্পীদের মধ্যে ইন্দ্রনীল সেন, শান্তনু রায় চৌধুরী, প্রমীতা মল্লিক, লকেট চ্যাটার্জী, মৌসুমী রায় চৌধুরী, ইমন চক্রবর্তী ও শুভ্রনীল চট্টপাধ্যায় এবং আবৃত্তি শিল্পী সত্যম রায়, মল্লিকা মজুমদারসহ ৩০ সদস্যের দল অনুষ্ঠানে নেন। বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে ফাহিম হোসেন চৌধুরী, মহিউদ্দিন চৌধুরী ময়না, লিলি ইসলাম, বুলবুল ইসলাম, তানিয়া মান্নান, সুস্মিতা আহম্মেদ, শারমিন সাথী ময়না এবং আবৃত্তি শিল্পী লায়লা আফরোজ, ডালিয়া আহমেদ, শিমুল মুস্তফা ও ঋর্ণা সরকার অনুষ্ঠানে অংশ নেন।