পাকিস্তানে আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনসহ কয়েকটি বিষয়ে ড. তাহির-উল-কাদরির সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করেছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার কাদরির আন্দোলনের রেশ টানতে সরকারের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা পর এ চুক্তি হয়। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় পাঁচটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর এনডিটিভির।
চুক্তির পর আগামী নির্বাচনে কাদরির দল তেহরিক মিনহাজ-উল-কুরআন অংশ নিতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। সরকারি দল এই সমঝোতা চুক্তিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ বলে আখ্যায়িত করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেছেন, সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ।
এদিকে পাকিস্তানের পত্রিকা ডন তাদের অনলাইনে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি নওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগের সঙ্গে সমঝোতা করতে পারেন। এরপর তিনি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারেন। জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলামের প্রধান ফজলুর রেহমান বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সেনাবাহিনী এবং বিচার বিভাগ আলোচনা করলে কোনো ক্ষতি হবে না।
ড. কাদরির সঙ্গে সরকারে চুক্তিতে নির্বাচনের আগে জাতীয় পরিষদ ভেঙ্গে দেয়া এবং নির্বাচনী সংস্কারসহ কাদরির অধিকাংশ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এবং তার শরিক দল। সমঝোতা অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়োগে এবং নির্বাচনী সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন কাদরি। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দু’জন সত্ এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। তিনি তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে সম্পূর্ণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে।
আগামী ১৬ মার্চ বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। তার আগে জাতীয় পরিষদ ভেঙ্গে দিতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের সংস্কার বিষয়ে আগামী ২৭ জানুয়ারি লাহোরে সরকারের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কাদরির দলের বৈঠক হবে। দেশটির নির্বাচন কমিশন বিধির ৬২ এবং ৬৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে যাচাই বাছাইয়ে এক মাস সময় দেয়া হবে। যাচাই বাছাইয়ের আগে কোনো প্রার্থীই নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। দুই পক্ষই সম্মত হয়, কারো বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকবে না। কাদরি এই চুক্তিকে ‘ইসলামাবাদ লং মার্চ ঘোষণা’ বলে আখ্যায়িত করেন। অন্যদিকে তথ্যমন্ত্রী কামান জামান কাইরা এবং বাণিজ্যমন্ত্রী আমিন ফাহিম এই চুক্তিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ বলে উল্লেখ করেন।
কানাডায় ছয় বছর বসবাস করে নির্বাচনের কয়েক মাস আগে দেশে ফিরে কাদরি কয়েকদিন আগে সরকারের পতনের জন্য আন্দোলন শুরু করেন। এটি ভালো চোখে দেখছেন না অনেকে। অনেকে আশঙ্কা করেন, তার পেছনে সেনাবাহিনী আছে এবং পাকিস্তানে অভ্যুত্থানের জন্য তিনি আন্দোলন করছেন।
