আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষকালে ১৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করার শব্দ পাওয়া গেছে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসের এক সাধারণ শিক্ষার্থী মারাত্মক আহত হলে তাকে আশংকাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে ক্যাম্পাসের জব্বারের মোড়ে সভাপতি শামছুদ্দিন আল আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ইমন গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে। এর কিছু পূর্বে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতা সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান খোকন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের রেললাইনের পূর্বে গেলে সভাপতি গ্রুপের নেতা-কর্মীরা তাকে আটকিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরে এ ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতা-কর্মীরা রামদা, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জব্বারের মোড়ের দিকে এগুতে থাকে।
সেখানে পূর্ব থেকে সভাপতি গ্রুপের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় সেখানে মুখোমুখি সংঘর্ষ বেধে যায়। চলতে থাকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় ১৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণের শব্দ পাওয়া গেছে। ভাংচুর করা হয় জব্বারের মোড়ের বেশ কিছু হোটেল ও দোকান। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাস জুড়ে। সংঘর্ষ চলতে থাকে ৭টা পর্যন্ত।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাকৃবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান খোকন, কৃষি অনুষদের রাহাত ও মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের সুজয়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.সুলতানউদ্দিন ভূঞা, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত ৮ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং হলে হলে তল্লাশি করার প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে বাকৃবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ইমন বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তাছাড়া এ ঘটনার সাথে ছাত্রলীগের কেই জড়িত থাকলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি শামছুদ্দিন আল আজাদ বলেন, এ ধরনের উত্তেজিত অবস্থায় সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের খোকনের জব্বারের মোড়ে আসা মোটেই ঠিক হয়নি। এতে উত্তেজিত হয়ে নেতা-কর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
বাকৃবি ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাছরীন সুলতানা জুয়েনা বলেন, আমরা ঘটনা জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। পরে উভয়পক্ষের নেতা-কর্মীরা নিজেদের হলে অবস্থান নেয়।
