ফসল উত্পাদনের প্রস্তুতিপর্ব, কর্তনপূর্ব পরিচর্যা, কর্তনকালীন ও কর্তনোত্তর সময়ে ফসলের বেশি ক্ষতি হয়। কৃষি কাজের এই সকল স্তরে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নিশ্চয়তার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এ জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠান দু’টি থেকে উদ্ভাবিত কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষক পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য সরকার ২০০৯ সালে ক্ষুদ্র আকারে হাতে নেয় কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ নামে একটি পাইলট প্রকল্প। এই প্রকল্পটি দেশের কৃষি সেক্টরের ২০ টি জেলার ৪০ টি উপজেলায় আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার ৬০ ভাগ ভর্তুকিমূল্যে বারি হাইস্পিড রোটারি টিলার, বারি বেড প্লান্টার, বারি সিডার, বারি গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্র, বারি শুকনো জমি নিড়ানী যন্ত্র, বারি থ্রেসার, বারি শস্য কর্তন যন্ত্র, বারি ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র ও বারি শস্য ঝাড়াই যন্ত্র কৃষকদের মাঝে বিতরণ করছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব হাসান বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষক পর্যায়ে খুব বেশি পরিচিত নয়। তাই কৃষকদের মাঝে এই সব কৃষি যন্ত্রপাতি সম্পর্কে পরিচিতি এবং গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য সময়ের প্রয়োজন। তাই এ প্রকল্পের প্রথম দু’বছর কৃষকদের মাঝে পরিচিতি প্রদানসহ কৃষক মাঠে ব্যবহারের ফলে প্রায় দু’কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে, যা এই প্রকল্পের এবং সাথে সাথে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য একটি মাইলফলক।
লেখক:বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, এফএমপি
ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), MvRxcyi
