রায়পুরায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে দুই গ্রামের হাজার মানুষ

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫০
রায়পুরা উপজেলায় ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে অন্তত ৮ গ্রামের সুন্নী-ওহাবী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত পাভেলের (২০) চিকিত্সাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। নিহত পাভেল মিয়া সাহেরচর গ্রামের সুন্নী সমর্থক শহিদ মিয়ার ছেলে। এঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ এলাহী বাদী হয়ে রায়পুরা উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম ওবায়দুল হক বাবুলকে প্রধান করে ৪৭ জনের নামোল্লেখ করে থানায় মামলা করেন। মামলার পর থেকে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ে অলিপুরা ও বাক্ষণবধূয়া গ্রাম। পুলিশি গ্রেফতারের ভয়ে গত ৩দিন যাবত্ অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে এসব গ্রামের অন্তত কয়েক হাজার মানুষ। এদিকে গত মঙ্গলবারের পর থেকেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়া ৮ গ্রামের ৩ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রতিপক্ষের ভয়ে অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যেতে দিচ্ছে না। অপরদিকে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাদেক চেয়ারম্যান সমর্থকদের বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের প্রতিবাদে শুক্রবার জুমা বাদ বিক্ষোভ মিছিল করেছে রায়পুরা উপজেলা ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদ। প্রকাশ, গিয়াস উদ্দিন আত্তাহেরী নামে এক মুফতির বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। গত মঙ্গলবার অলিপুরা গ্রামে গিয়াস উদ্দিন আত্তাহেরীকে প্রধান বক্তা করে সুন্নী মহাসম্মেলনের আয়োজন করা হলে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী এ ওয়াজ মাহফিল বন্ধের দাবিতে ১২ জানুয়ারি রায়পুরা থানা ঘেরাও করে। ১৫ জানুয়ারি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাদেক পুলিশের উপস্থিতিতে ওয়াজ মাহফিল শুরুর চেষ্টা করলে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সংঘর্ষ অন্তত ৮ গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।