চট্টগ্রাম বন্দরে শেভরনের বিস্ফোরক খালাসে অনিয়ম তদন্তে কমিটি

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৫
জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস অনুসন্ধানে ভূতাত্ত্বিক জরিপে ব্যবহারের জন্য গ্যাস অনুসন্ধানী কোম্পানি শেভরনের আমদানিকৃত ৪৬ টন উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক আমদানিতে সরকারের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যথাযথ অনুমোদন থাকলেও এগুলো খালাসের ক্ষেত্রে গুরুতর ত্রুটি করেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শেভরন, সিএন্ডএফ ও শিপিং এজেন্ট হোম মাউন্স শিপিং। নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র শনিবার ইত্তেফাককে উপরোক্ত বিষয়টি অবহিত করে। বন্দর কর্তৃপক্ষ এ অনিয়ম তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এদিকে খালাস প্রক্রিয়ায় বিস্ফোরক আমদানির ডিক্লারেশন বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে যথানিয়মে না করায় এবং নৌবাহিনীর বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়া বিস্ফোরকগুলো লাইটারেজ জাহাজ আগন্তুক-৩-এ মাদার ভেসেল ‘নোয়াহ সাথো’ থেকে স্থানান্তর করায় বন্দর কর্তৃপক্ষ সিএন্ডএফ ও শিপিং এজেন্ট হোম মাউন্স শিপিংয়ের সবধরনের কার্যক্রম সাসপেণ্ড করেছে বলে গতকাল শনিবার বন্দরের সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ জানান। তিনি জানান, এই অনিয়মের কারণ অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম বন্দরের উপ-সংরক্ষক ক্যাপ্টেন নাজমুল আলমকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর মালয়েশিয়া থেকে শেভরনের জন্য বিস্ফোরক নিয়ে আসা মাদার ভেসেলের চট্টগ্রাম বন্দরে অবস্থানের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে লাইটারেজ ভেসেলে স্থানান্তর এবং চট্টগ্রাম বন্দরে আসার আগে এসব বিস্ফোরকের ব্যাপারে ডিক্লারেশন না দেয়াটা শিপিং এজেন্টের বেআইনী কাজ হয়েছে। কারণ বন্দরে পৌঁছার আগে স্পেশাল কার্গো এবং জেনারেল কার্গো সবক্ষেত্রেই বন্দর কর্তৃপক্ষ বরাবরে ঘোষণা প্রদান করার বিধান রয়েছে। চট্টগ্রাম কোস্ট গার্ডের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র গতকাল ইত্তেফাককে জানায়, মালয়েশিয়া থেকে শেভরনের আমদানিকৃত স্পর্শকাতর ও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক বোঝাই করা লাইটারেজ জাহাজটিকে বর্তমানে কোস্টগার্ডের হেফাজতে দেয়া হয়েছে। এটিকে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলের বোট ক্লাব ও ১৫ নম্বর ঘাটের মধ্যবর্তী স্থানে কঠোর নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে। সূত্রটি জানায়, এই অনিয়মের মূল হোতা হচ্ছে শিপিং এজেন্ট। তার সাথে যুক্ত হয়েছে গ্যাস অনুসন্ধানী কোম্পানি শেভরনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গুরুতর অনিয়ম। এর পেছনে অন্য কোনো দুরভিসন্ধি না থাকলেও বিষয়টি দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত মারাত্মক। কাজেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা যে প্রক্রিয়ায় গত ১৫ জানুয়ারি এসব বিস্ফোরক খালাস করেছে তাতে ক্রিমিনাল এক্টিভিটি প্রতিভাত হয়েছে বলে কোস্টগার্ডের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সূত্রটি জানায়। সূত্র আরো জানায়, এসব বিস্ফোরক যে আমদানি করা হচ্ছে, এ ব্যাপারে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ইতিপূর্বে চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করেছে। এ কাজে বেআইনী যে বিষয়টি হয়েছে তা হলো বন্দরকে ডিক্লারেশন প্রদান না করা, নৌ বাহিনীর অনুমতি গ্রহণ না করা, মাদার ভেসেল থেকে কাউকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে এসব স্পর্শকাতর পণ্য একটি লাইটারেজ ভেসেলে স্থানান্তর করা ইত্যাদি। নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ড বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করছে। কারণ এ ধরনের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক ভুল হাতে বা স্বার্থান্বেষী চক্রের হাতে যাওয়ার অর্থ ভয়াবহ। এছাড়া শিপিং এজেন্ট ও সিএন্ডএফ এজেন্ট এসব বিস্ফোরক গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশের অনুমতি ও এসকর্টও প্রার্থনা করেনি।