প্র জ ন্মে র এ ক জ ন

অ্যামাজনের জনক জেফ বেজোস

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৭
আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা অনলাইনে কেনাকাটা করতে স্বস্তিবোধ করেন। আর ‘অনলাইন কেনাকাটা’ শব্দটি এলে প্রথমে যে সাইটটির নাম চলে আসে সেটি হচ্ছে ‘অ্যামাজন ডটকম’। বিশ্ব মাতানো এই সাইটির পেছনে কাজ করছেন টাইমস ম্যাগাজিনের জরিপে শীর্ষ উদ্যোক্তা ১০০ জনের মধ্যে থাকা জেফ বেজোস। তার উঠে আসার গল্পটি নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ‘অ্যামাজন ডট কম’ প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বাজার মূল্য ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বর্তমান কর্মী সংখ্যা ৫৬ হাজার ২০০ জন। জেফ বেজোসের অ্যামাজন গঠনের গল্পটি বেশ মজার। নিউ ইয়র্কে বসের ওপর রাগ করে চাকরি ছেড়ে দিয়ে আমেরিকা ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। আর ঘুরতে ঘুরতেই সফটওয়্যার ডেভেলপারদের বিশাল সংখ্যা সম্পর্কে তার কিছুটা ধারণা হয়। আর এর ওপর ভরসা করেই ১৯৯৪ সালে শুরু করেন ই-কমার্স সাইট অ্যামাজন। আজকে যারা অল্পতেই মুনাফার জন্য বসে থাকেন, তারা শুনলে অবাক হবেন যে প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পর লাভের মুখ দেখে প্রতিষ্ঠানটি। আর এই দীর্ঘ সময় সাহসী উদ্যোক্তার মতোই প্রতিষ্ঠানটিকে ধরে রেখেছিলেন বেজোস। একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান তৈরির চেয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিষ্ঠান তৈরির ব্যাপারেই মনোযোগী ছিলেন এ উদ্যোক্তা। কাজের চাপ ও হতাশা যেন তাকে গ্রাস করতে না পারে সেজন্য প্রায়ই ঘুরতে বেরিয়ে পড়তেন তিনি। আর বিভিন্ন বিষয় থেকে নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজে প্রয়োগ করতেন। তাই তো নবীন উদ্যোক্তাদের জন্য তার উপদেশ, ‘অল্প সময়ের জন্য হলেও নিয়মিত ঘুরতে বেরিয়ে পড়ুন।’ বর্তমানে টাইমসের তালিকায় শীর্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি রয়েছেন ৪ নম্বর অবস্থানে। অ্যামাজনের টুকিটাকি অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস সর্বনিম্ন বেতন পাওয়া প্রধান নির্বাহীদের মধ্যেও অন্যতম। কারণ গত বছর তিনি বেতন বাবদ পেয়েছিলেন মাত্র ৮১ হাজার ৮৪০ ডলার। অবশ্য তার বাদবাকি ১.৬৮ মিলিয়ন ডলারের যে সম্পদ রয়েছে তা ‘ব্যবসার সুরক্ষা’ এবং তার কর্পোরেট ভ্রমণের জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছে। আর এসবের পেছনে কারণ হচ্ছে অ্যামাজনের এক বিশেষ পরিকল্পনা। যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাকে ন্যূনতম অংকের নগদ সম্মানী প্রদান করা হবে। শেয়ার হোল্ডারদের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই কাজটি করা হয়। বই দিয়ে শুরু ১৯৯৪ সাল। বই দিয়ে শুরু করেছিলেন জেফ বেজোস কারণ বই কমবেশি সব মানুষই পড়ে। বইয়ের চিন্তা মাথায় রাখার আরও একটি কারণ হলো বই কিনতে ট্রায়ালের প্রয়োজন হয় না এবং এর রয়েছে পরিবহন সুবিধা। তিনি আরও একটি মজার ব্যাপার চিন্তা করেছিলেন। সেটা হলো, পণ্য তখনই সহজে বিক্রি হয় যখন অনেক পণ্য থাকবে, সহজে পাওয়া যাবে এবং দামটা কম হবে। পণ্য কেনার হাজার বছরের পুরোনো এই প্রক্রিয়াকে পূর্ণ রূপ দিয়েছিল অ্যামাজন। শুধু তাই নয়, রিটেইল ব্যবসাটায় ইন্টারনেট যুক্ত করে নতুন যুগের সূচনা ঘটিয়েছিল অ্যামাজন। সাইটটিতে রয়েছে রিয়াল টাইম অপটিমাইজেশনের সুবিধা, যা চিরাচরিত রিটেইল ব্যবসায় চিন্তা করা যায় না। আসলে কোনোকিছুর পূর্ণাঙ্গ প্রোটোটাইপ ই-কমার্স সাইটে ব্যবহারের পথিকৃত্ হলো অ্যামাজন। ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন অ্যামাজন ডিজিটাল সাপ্লাই চেইনের প্রবর্তন করেছিল কার্যকরভাবে। তবে এই কাজটা জেফ বেজোসের না। ওয়ালমার্ট থেকে ২ জন কর্মকর্তাকে অ্যামাজনে যোগ দিয়েছিলেন—রিচার্ড ডালজেলকে চিফ ইনফরমেশন অফিসার হিসেবে এবং জিমি রাইটকে চিফ লজিস্টিক অফিসার হিসেবে। তারা ওয়ালমার্টে কম্পিউটারাইজড সাপ্লাই চেইন এবং কার্যকরী সরবরাহ-পরিবেশন নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানতেন। আর তাদের হুট করে ওয়ালমার্ট ছাড়ার কারণে ১৯৯৮ সালে ট্রেড সিক্রেট আইনে তারা মামলা করেন অ্যামাজনের বিরুদ্ধে। ১৯৯৪ সালে যেখানে অ্যামাজনের ফুলফিলমেন্ট সেন্টার ছিল ৪০০ বর্গ ফিটের একটা গ্যারেজ, সেখানে ২০১০-এ এটা এসে দাঁড়ায় ৫০টিতে এবং মোট ২ কোটি ৬০ লাখ বর্গ ফিটে! মিউজিক হাজার বছরের পুরাতন তত্ত্ব দিয়েই কাজ করেছিল অ্যামাজন। কারণ অনলাইনে মিউজিক তখন বিক্রি হচ্ছিল কিন্তু অ্যামাজনের কাছে পাওয়া গেল ৩টি ব্যাপার একসাথে। সেই সাথে সব ধরনের মিউজিক অ্যালবামে ৩০% পর্যন্ত ছাড় পাওয়া গেল। আর তাদের গানের সাপ্লাই কোনো অংশেই কম ছিল না। সার্চিং অন্যান্য সাইটের তুলনায় এখানে গান খোঁজা ছিল সহজ। আর এর ফলাফলও পাওয়া গেল খুব তাড়াতাড়ি। সবকিছু মিলিয়ে সর্ববৃহত্ মিউজিক বিক্রেতা বনে গেল অ্যামাজন। আর সেটাও মাত্র ১২০ দিনের মাথায়। বিভিন্ন সময় অ্যামাজন বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এসেছে। ২০১১ সালে ‘মাই হ্যাবিট’ চালু করে অ্যামাজন, যদিও ভিন্টেপ্রিভি নামের প্রতিষ্ঠানটি ছিল মার্কেট লিডার। আবার, যে ব্যবসায় প্রতিযোগী শক্ত অবস্থানে ছিল অ্যামাজন কিনে নিয়েছে ওই কোম্পানিকে। যেমন, ২০১০ সালে তারা কিনে নেয় কুইডসি।