বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। সে সুবাদে জীবনের বড় একটা অংশ কেটেছে দেশের বাইরে এবং ঢাকার অদূরে গাজীপুরে। বিভিন্ন পরিবেশে বেড়ে উঠার অভিজ্ঞতাগুলো জড়ো হয় তার জীবনের প্রতিটি অংশে। নিজের নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন আজকের এই অবস্থান। বলছিলাম এই প্রজন্মের মেধাবী সফলজন ঢাকার নিউটন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ম্যানেজার (ট্রেনিং অ্যান্ড অপারেশন্স)
এমএ জাকী তুর্জমান সম্পর্কে। তাকে নিয়ে লিখেছেন মুহম্মদ কবীর
শৈশব এবং কৈশোরের পুরো সময়টাই কাটিয়েছেন গাজীপুরে। এখান থেকেই স্কুল এবং কলেজের গণ্ডি পেরোন তিনি। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৮ সালে বিবিএ শেষ করে যোগ দেন কর্মক্ষেত্রে।
বর্তমানে ঢাকার নিউটন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ম্যানেজার, ট্রেইনিং অ্যান্ড অপারেশন্স হিসেবে কর্মরত এমএ জাকী তুর্জমান বলেন, ‘২০০৮ সালে বিবিএ শেষ করে যোগ দিই কাল্টিমেক্স এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড নামের বহুজাতিক একটি কোম্পানিতে। এ প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগে (হিউম্যান রিসোর্স বা এইচআর ডিপার্টমেন্ট) এইচআর অ্যান্ড ট্রেইনিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়।’ এরপর তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই ইচ্ছা ছিল এমন কোনো সেক্টরকে আমার কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেব যেখান থেকে মানুষের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারব। সে ইচ্ছা থেকেই এইচআর ও ট্রেইনিং সেক্টরকে বেছে নিই। এরপর আমি যোগ দিই এসিসিএ নামে আরেকটি বহুজাতিক কোম্পানিতে। এ প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ কার্যালয়ে বেশ বড় একটা সময় প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয় আমার।’
জাকী তুর্জমান জানান, পরবর্তীতে তিনি এইচআর কো-অর্ডিনেটর হিসেবে যোগ দেন ভিইউ মোবাইল লিমিটেড নামের একটি স্প্যানিশ কোম্পানিতে। এই কোম্পানিতে যোগ দেওয়া ছিল তার জন্য চ্যালেঞ্জিং একটি সিদ্ধান্ত। কেননা তার হাত ধরেই এই কোম্পানির এইচআর ডিপার্টমেন্টের যাত্রা শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানে আমার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ছিল পুরো কোম্পানির অর্গানোগ্রাম তৈরি, নতুন কর্মী নিয়োগ, কাজের প্রক্রিয়া উন্নয়ন, কর্মীদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান শুরু এবং কোম্পানির জন্য পূর্ণাঙ্গ কার্যকর একটি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি দাঁড় করানো।’
এরপর ২০১২ সালে তিনি যোগ দেন সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নিউটন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে ম্যানেজার, ট্রেইনিং অ্যান্ড অপারেশন্স পদে। এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। যার মাধ্যমে দেশের তরুণ-তরুণীরা খুব সহজেই নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নিতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ এবং পরিচালনা বিভাগ তত্ত্বাবধান করেন তিনি। জাকী তুর্জমান জানান, নিউটন ইন্টারন্যাশনালের সব ধরনের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের মডিউল তৈরি, প্রশিক্ষকদের ট্রেইন-আপ করা এবং প্রশিক্ষণগুলো কার্যকরী হচ্ছে কি না—এসব বিষয় পর্ববেক্ষণ করাই তার প্রধান কাজ।
নিজের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। মানবসম্পদের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে চাই। এই লক্ষ্যে আমি ইতোমধ্যে এইচআর প্রশিক্ষণের ওপর দেশে এবং দেশের বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়াতে বেশ কিছু ট্রেইনিং প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি।’ যারা সদ্য পড়াশোনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছে তাদের উদ্দেশে এমএ জাকী তুর্জমান বলেন, ‘নিজেকে জব মার্কেটের জন্য ভালোভাবে তৈরি করে নিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন যোগাযোগের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মবিশ্বাস এবং কাজের বিষয়ে সঠিক আচরণ। কর্মক্ষেত্রে ভালো একটি কাজ পাওয়ার জন্য সঠিকভাবে সিভি বা জীবনবৃত্তান্ত তৈরি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেটে খোঁজ করলেই মানসম্পন্ন নমুনা সিভি পাওয়া যায়, যেখান থেকে সহায়তা নিয়ে ভালো একটি সিভি তৈরি সম্ভব।’ বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলাম কর্মকাণ্ডেও তরুণদের সম্পৃক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। জাকী তুর্জমান বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে সফল হতে চাইলে অবশ্যই কঠিন পরিশ্রম এবং সত্ভাবে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, জীবনে সাফল্য অর্জনের শর্টকাট কোনো রাস্তা নেই।’
এমএ জাকী তুর্জমান
ডাক নাম :তুর্জ
জন্ম তারিখ ও স্থান :২ অক্টোবর ১৯৮৩, জাপান
বাবার নাম :ড. সাঈদ আহমেদ
মায়ের নাম :লুত্ফা সাঈদ
প্রথম স্কুল :রানী বিলাসমণি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, গাজীপুর
প্রিয় মানুষ :মা
প্রিয় উক্তি :অন্যের জীবনকে সহজতর ও আরামদায়ক করার একটি সুযোগও আমি হারাতে চাই না।
প্রিয় পোশাক :জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট
অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে, মানবসম্পদ ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক বিভিন্ন ব্লগ ভিজিট করে।
সাফল্যের সংজ্ঞা :সুখী জীবনযাপন করা।
