বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে দেশকে বিশ্বের দরবারে সম্মানের আসনে উন্নীত করেছে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে। এ দেশেও কৃতী সন্তানদের জন্ম হয়েছে, যারা সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন স্ব-স্ব কাজের মাধ্যমে। এ সময় নতুন প্রজন্ম অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে গিয়ে সুনাম অর্জন করছেন। গর্বিত এসব পেশা তাদের বাবা-মায়ের মনে যেমন আশার সঞ্চার করছে, একই সাথে সম্মানজনক ধারায় দেশেও আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। এ বিষয় নিয়ে এবারের আয়োজনটি করেছেন জাকির এইচ তালুকদার
অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পেশা গড়া এখন যেমন সহজ হয়েছে আগে এতটা সহজ ছিল না। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশেই এর শিক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একসময় বিদেশে গিয়ে এ বিষয়ে পড়ালেখা করতে হতো। কিন্তু এখন এ দেশে শিক্ষার সুযোগ থাকায় ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থী এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে বিশ্বময়। আর এতে শুধু ছেলেরা নয়, সমধিক হারে মেয়েরাও পেশাগত সাফল্যে এগিয়ে যাচ্ছে। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে উড়োজাহাজের প্রকৌশলী বা এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার। বিমান প্রকৌশল একটি হাইটেক প্রফেশন। যেখানে পুরো বিশ্বে বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্ম সাফল্যের সাথে পেশাদার কর্মকাণ্ডে সমহারে ছড়িয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এডেক্সেল বোর্ডের আওতায় শিক্ষার্থী এই ডিগ্রি সম্পন্ন করে বিশ্বজুড়ে চাকরির সুযোগ নিতে পারে। এ ছাড়া এই কোর্সে বিশ্বের ১৭৩টি দেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার করার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা চাইলেই ইংল্যান্ডের কভেন্টি, কিংসস্টোন, স্যালফোর্ড, ক্রেইনফিল্ড প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের যেকোনো দেশের এডেক্সেল অনুমোদিত ইউনিভার্সিটিতে সহজে চূড়ান্ত বর্ষে ভর্তি হতে পারে। আর সারা বিশ্বে সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে এই পেশায় চাকরির অবারিত সুযোগ।
এ পথেই এগিয়ে গেছে বাংলাদেশের এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার বশির আহমেদ। তিনি বর্তমানে সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে টাইগার এয়ারওয়েজে এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিরিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। একই ধারায় সফলতার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন আরাফাত রোমিও। এইচএসসি পাস করে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়ে বর্তমানে তিনি আমেরিকার উইসিটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করছেন। এমনই এক তরুণ শোভন আহমেদ পর্তুগালের ইনস্টিটিউট অব সুপরিয়র টেকনিকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স পড়ছে। এইচএসসি শেষ করে তারেক ফয়সাল আসিফ ক্যাটেকের উত্তরার এগার নম্বর সেক্টরে দুই নম্বর রোডে চৌদ্দ নম্বর প্লটে অবস্থিত ক্যাম্পাসে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল উন্নত বিশ্বে গিয়ে এই বিষয়ে বড় ডিগ্রি অর্জন করা। তার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বর্তমানে সে ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হার্ডফোর্ডশায়ারে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করছেন। একইভাবে সাফল্যজনক অধ্যায়ে পদার্পণ করেছেন খুলনা বাগেরহাটের ছেলে নাজমুস সাকিব। এসএসসি শেষ করে তিনিও একই প্রতিষ্ঠানে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এ-লেভেল করতে ভর্তি হয়েছিলেন। নাজমুুস সাকিব অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এ-লেভেল শেষ করে লেভেল ফাইভ সম্পন্ন করার পর বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের লুত্ফনসা টেকনিক এজি, শ্যাননে ইন্টার্নি করছেন। তার মতো সফলতার পথে এগিয়ে গেছে জারা হকও। এইচএসসি পাস করে তিনিও ভর্তি হয়েছিলেন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। বর্তমানে তিনি আবুধাবী এয়ারপোর্টে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। উন্নত ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সাওসান রহমানও এইচএসসি পাস করে ভর্তি হয়েছিলেন অ্যারোনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। বর্তমানে তিনি পর্তুগালের এবোনো লিসবোন ইউনিভার্সিটিতে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করছেন। মাসুদ বিন মামুনও চেয়েছিলেন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হতে। কিন্তু কোথায় এ বিষয়ে পড়াশোনা করবেন এ নিয়ে ছিলেন দ্বিধায়। এরপর ৮৯৯১৩৭১ এই নম্বরে কথা বলেন ক্যাটেকের সাথে। তার সব সংশয় দূর হয়ে যায়। ভর্তি হন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। আজ তিনি আয়ারল্যান্ডের লুত্ফনসা টেকনিক এজি, শ্যাননে ইন্টার্নি করছেন। এভাবে যশোরের ছেলে অনিক মাহমুদ, পটুয়াখালীর ছেলে এনামুল হক, মুন্সিগঞ্জের ছেলে সুজিত সূত্রধর, ঢাকার ছেলে মাহদী হাসান, সাদ মোহাম্মদ, মাহদুল আমিন, মিরপুরের শরীফুল হক, নারায়ণগঞ্জের ছেলে আবু সুফিয়ান মুন্না, পুরান ঢাকার ছেলে আক্তারুল আলম ফয়সাল, কুমিল্লার ছেলে ওমর ফারুক, সৈয়দা আসফিয়া আহসান, মিম বিনতে হাসান, খুলনার ছেলে কাজি মুসফিকুর রহমান, উত্তরখানের ছেলে মাকসুদুর রহমান—এমন অসংখ্য শিক্ষার্থী এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দেশ-বিদেশে ক্যারিয়ার গড়ছেন। এটি বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের সাফল্যের এক নতুন ধারা। উল্লেখ্য, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বা এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে এমন একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি যিনি উড়োজাহাজের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করেন। উড়োজাহাজ উড্ডয়নের আগে এর সব সিস্টেম ঠিক আছে কি না তা সম্পর্কে পাইলটরা সব ধরনের তথ্যপত্র নিয়ে থাকেন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারদের কাছ থেকে। উড়োজাহাজের যান্ত্রিক নিরাপত্তা নির্ভর করে এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারের উপর। অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়তে এসএসসি-এইচএসসি অথবা এ লেভেল-ও লেভেল উত্তীর্ণ হতে হয়।
