বাকৃবি ঘটনায় খুনের মামলা, দু’টি তদন্ত কমিটি

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০০
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে ছাত্রলীগের গুলিতে নিহত রাব্বির পরিবারে আহাজারি থামছে না কিছুতেই। বিচারের দাবিতে সোচ্চার পরিবারসহ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ক্যাম্পাস ছাত্র-ছাত্রী শূন্য হয়ে পড়লেও বয়রা এলাকার পরিস্থিতি থমথমে। ক্যাম্পাসে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছেন। রবিবার বাদ আসর বয়রা মসজিদের সামনে নামাজে জানাজা শেষে বেপারীপাড়া কবরস্থানে রাব্বিকে দাফন করা হয়। বাকৃবি’র ঘটনায় রবিবার সকালে ডীন কাউন্সিলের এক জরুরী সভায় ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নিহত রাব্বির পিতা দুলাল মিয়া বাদী হয়ে একটি খুনের মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুদ্দিন আল আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আহমেদ, ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান খোকা, জয়, শাহীন মাহমুদ, কাউসার আলী, আনোয়ার পারভেজ রিপন, ইয়াহিয়া তালুকদার, তারেক আজিজ, শাহিনুজ্জামান, ফেরদৌস আলম কনক, ইমরান সরকার, নূরে আলম, রুবেল মিয়া, আনোয়ার রাকিব খান, আনোয়ার হোসেন, আবু বোরহান, রাশেদুল ইসলাম খোকন, সাজ্জাত হোসেন রানা, সাজবি, রুকন ও নয়নের নাম উল্লেখ করে দেড়শ’ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে এ খুনের মামলা দায়ের করেছেন। বাকৃবিতে ভিসির বাসভবনে রবিবার সকালে ডীন কাউন্সিলের এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাকৃবি ভিসি প্রফেসর ড. রফিকুল হক। সভায় পৃথক ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি সার্বিক ঘটনা বিশ্লেষণ করে সুপারিশ করবে। আর প্রফেসর ড. এটিএম জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্ব তিন সদস্যের অপর কমিটি ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবে। দুইটি কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। বাকৃবি গণসংযোগ অধিদপ্তর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস ও পরীক্ষা আপাতত স্থগিত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস, গবেষণা ও প্রশাসনিক অন্য সকল কার্যক্রম যথারীতি চলছে। নিহত রাব্বির পিতা টেম্পো চালক দুলাল মিয়া, মা মিনারা বেগম, দাদি মানিক জানের কান্না এখনো থামেনি। তারা এ ঘটনার সুবিচার হিসেবে জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেছেন। এদিকে রবিবার সকালে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের এক ব্রিফিং-এ ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. রফিকুল হক বলেছেন, ‘এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমরা বারবার চেষ্টা করেছি সেটা মোকাবেলা করার জন্য। শেষ পর্যায়ে একটি শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসির মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই চরম উত্তেজনা সৃষ্টির প্রেক্ষিতে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে হলগুলো খালি করে দেয়া হয়েছে। কোনো কোনো মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সফলতাকে ভালো চোখে দেখেনি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থীতিশীল করার জন্য ছাত্রদের দ্বন্দ্ব উস্কে দিয়েছে।’ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি শামছুদ্দিন আল আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ইমন গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, পূর্ব শত্রুতা, টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্যে প্রশাসন ও ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের ভাগাভাগি নিয়ে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটে। শনিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি শামছুদ্দিন আল আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ইমন গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় বয়রা গ্রামের ১২ বছরের মাদ্রাসা ছাত্র রাব্বি নিহত হয়। পরে বিক্ষুব্ধ বয়রা গ্রামবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি হলে হামলা, ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। দফায় দফায় ছাত্রলীগের এ সংষর্ষে মোট ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়। আহত হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশত। যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের কাছে ন্যস্ত রয়েছে। ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার গোলাম কিবরিয়া জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনায় ৪ জন ছাত্রকে আটক করেছে।