বিশ্বব্যাংক প্যানেলকে জবাব দিয়েছে দুদক

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০২
পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার এজাহারের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংক প্যানেলের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। দুদক থেকে পাঠানো এ চিঠি আজ বিশ্বব্যাংকের কাছে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইন উপদেষ্টা আনিসুল হক। গতকাল রবিবার বেলা পৌ?নে ২টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি বিশ্বব্যাংকের মনোনীত বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান লুই মোরেনো ওকাম্পো দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বরাবর চিঠি দেন। চিঠিতে পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুদকের তদন্ত ও মামলা সংক্রান্ত কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা চিঠির উত্তর তৈরি করেছি। প্যানেল চিঠিতে যা যা জানতে চেয়েছেন, তার সব উত্তর দুদকের চিঠিতে রয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ চিঠি চলে যাবে।’ এদিকে সৈয়দ আবুল হোসেন এবং আবুল হাসন চৌধুরীর ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামলা তদন্তাধীন হওয়ায় এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের কাছে কিছু বলা যাবে না। তদন্ত শেষ হলে আপনারা সব জানতে পারবেন।’ দুদক সূত্র জানিয়েছে, দুদকের তৈরি করা চিঠিতে বিশ্বব্যাংকের প্রশ্নের উত্তরের পাশাপাশি দুদকের তদন্ত ও মামলা সংক্রান্ত কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা এবং বাংলাদেশের আইন, দুদক আইন, জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া তদন্তের অগ্রগতির ব্যাপারে তথ্য দেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মনোনীত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলের চেয়ারম্যান লুই মোরেনো ওকাম্পো’র দেয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অনুসন্ধান শেষে এজাহার দেয়া দুদকের একটি প্রাথমিক ইতিবাচক পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞ দলটি এ এজাহার পরীক্ষা করে দেখেছে। তবে প্রথম থেকে পর্যায়ক্রমে ঘটনা বিশ্লেষণ করার পর বিশেষজ্ঞ দলটি মনে করে, এটা প্রতিষ্ঠিত যে, দুর্নীতির অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সর্বোচ্চ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ব্যক্তিগতভাবে জড়িত। চিঠিতে ওকাম্পো আরও লেখেন, এসএনসি-লাভালিনের কর্মকর্তা রমেশ শাহর ডায়েরিতে এই ঘুষের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ দলটি মনে করে, সম্পূর্ণ ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্ত এবং অবশ্যই তাকে এজাহারভুক্ত আসামির তালিকায় সংযোজন করতে হবে। অপরদিকে ওই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এসএনসি লাভালিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশের নোটবুকে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে পারসেন্টটেজ (কমিশন) প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু পরিপূরক সাক্ষ্য সংগ্রহ করতে না পারায় এজাহারে তাদের নাম দেয়া হয়নি। তাদের অপরাধের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তকালে খতিয়ে দেখা হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।