ইডেন ছাত্রীকে এসিড নিক্ষেপ

প্রধান আসামি মনিরকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের নির্দেশ

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৫
ইডেন কলেজের ছাত্রী শারমিন আক্তার আঁঁখির ওপর এসিড নিক্ষেপ মামলার প্রধান আসামি মনির উদ্দিনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি মাহমুদুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ আদেশ দেয়। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করে আদালত। সংশ্লিষ্টদের ১৫ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় গত ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর চাঁনখারপুলের কাজী অফিসের ভেতরে শারমিন আক্তার আঁখিকে এসিডে ঝলসে দেয় মনির উদ্দিন। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় প্রধান আসামি মনিরকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এডভোকেট মনজিল মোরসেদ। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত নির্দেশ দেন। এদিকে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় কাজী অফিসেই এসিড নিক্ষেপের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাজী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল হোসেনের আদালতে যে কাজী অফিসে ওই ছাত্রী এসিডের শিকার হন সেই কাজী হাবিবুল্লাহ খান সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি দেন। আদালতে তিনি বলেন, বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তার সামনেই আসামি মনির উদ্দিন ওই মেয়েটির মাথায় এসিড ঢেলে দেয় ও চাকু মারে। এদিকে একই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত ১৬ জানুয়ারি ওই ছাত্রী একই জবানবন্দি দেন। সূত্রমতে জানা যায়, এসিডে ঝলসে গিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে থাকা ওই ছাত্রী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দিতে বলেছেন, এসিড নিক্ষেপকারী মনির উদ্দিনের সঙ্গে তার পূর্ব পরিচয় ছিল। প্রায়ই সে বিয়ের জন্য উত্ত্যক্ত করতো। কিন্তু সে কখনোই তাকে পাত্তা দেয়নি। গত ১৫ জানুয়ারি সে রাজধানীর কাকরাইলে তার আত্মীয়ের বাসা থেকে বের হলে আসামি মনির উদ্দিন ও তার সহযোগী মাসুম তার রিকশার গতিরোধ করে এবং তাদের সঙ্গে যেতে বলে। যেতে না চাইলে ব্যাগ থেকে এসিড বের করে নিক্ষেপের ভয় দেখিয়ে বংশাল থানাধীন ৭৮/৩ নাজিম উদ্দিন রোডের কাজী অফিসে নিয়ে আসে।