অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ছানাদুল, আলামীন ও আবুল বাহার নামে তিন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি একই মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আবুল বাহারের স্ত্রী জোসনা বেগমকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। নরসিংদীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গতকাল রবিবার এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেছে।
জানা গেছে, ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়া মহল্লার প্রশান্ত রায়ের ছেলে ৬ বছরের শিশুপুত্র পল্লব রায় সেবা সংঘের সম্মুখস্থ মাঠে খেলতে যায়। কিন্তু খেলাধুলা শেষে প্রতিদিনের মত সে আর বাড়ি না ফেরায় তার মা ভারতী রায়সহ তার আত্মীয়-স্বজন তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে। তাকে কোথাও না পেয়ে শহরে মাইকযোগে হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। ১৮ ফেব্রুয়ারি অপহরণকারীরা টেলিফোনে পল্লবের মুক্তির বিনিময়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এই অবস্থায় একই তারিখে প্রশান্ত রায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নরসিংদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলাসূত্রে তল্লাশী চালিয়ে র্যাব-১১ ও নরসিংদী থানা পুলিশ অপহূত শিশু পল্লব রায়কে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে বিচারক ইনামুল হক ভূঞা তিন অপহরণকারীর প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডাদেশ ঘোষণা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস করে কারাদণ্ডাদেশের নির্দেশ দেন তিনি।
