মাগুরা শ্রীপুরে বোমা ফাটিয়ে একই রাতে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

আপডেট : ০২ মে ২০১৯, ১৬:১৫

মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের মাশালিয়া গ্রামে গত বুধবার গভীর রাতে দুইটি পাশাপাশি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। ঘটনার শিকার দুই বাড়ির মালিক সনৎ কুমার বিশ্বাস ও প্রশান্ত কুমার ঘোষ। 

এ সময় ডাকাতদলের হামলায় বাড়ির মালিক সনৎ কুমার বিশ্বাস (৬০) ও স্ত্রী সম্পা রানী (৫৫) বিশ্বাস মারাত্মক আহত হয়েছেন। ডাকাতি শেষে মালামাল নিয়ে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল পরপর দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বোমা দুটির মধ্যে একটি বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে গোটা এলাকার লোকজনদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অপর বোমাটি বিস্ফোরিত না হওয়ায় এবং এলাকার লোকজনদের হৈ, হল্লা টের পেয়ে দুস্কৃতিকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ডাকাতদল দুইটি বাড়ি থেকে নগদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ১৮ ভরি স্বর্ণ এবং ১০টি মোবাইল সেট লুট করে নিয়ে গেছে বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন।

ঘটনার শিকার সনৎ কুমার বিশ্বাস জানান, রাত আনুমানিক ১টার দিকে বাড়ির পিছন গেট খোলার শব্দ তার ঘুম ভেঙে যায়। তিনি ঘরের দরোজা খুলে বাইরে আসামাত্র ৭/৮ জনের মতো একদল সশস্ত্র দুস্কৃতিকারী বাড়ির মধ্যে ঢুকে সনৎ বিশ্বাসকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে মারাত্মক আহত করে। এরপর তার স্ত্রী সম্পা রানীকে গলা চিপে ধরে চড়, থাপ্পড় মারতে থাকে। ডাকাতদল পুলিশ পরিচয় দিয়ে ঘরে ঢুকে বাড়ির সকল সদস্যকে বেঁধে ঘরে তল্লাশি শুরু করে।বাড়ির লোকজনদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এভাবে প্রায় দুই ঘন্টা ধরে আলমারি ও বাক্স খুলে এবং বিছানাপত্র লণ্ডভণ্ড করে সনৎ এবং তার বড় ভাই সঞ্জয় কুমার বিশ্বাসের ঘর থেকে নগদ ১ লাখ ২২ হাজার টাকা, ১১ ভরি সোনা এবং ৮ টি মোবাইল সেট লুট করে নেয়। তিনি আরোও জানান, ডাকাতদলের হাতে ৪/৫ টি রামদা, দুটি শাবল, লোহার রড এবং ১ টি পিস্তল তিনি দেখতে পেয়েছেন।

এরপর ডাকাতদলের দুজন সদস্যকে এই বাড়িতে বসিয়ে রেখে বাকি ৫-৬ জন পাশের বাড়ির প্রশান্ত কুমার ঘোষ ও তার ভাই সুনীল ঘোষের বাড়িতে হানা দিয়ে প্রায় সোয়া সাত ভরি সোনা, নগদ প্রায় ৩ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল সেট লুট করে নিয়ে যায়। এই বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় ডাকাতেরা দুটি হাত বোমা নিক্ষেপ করে।

সংবাদ পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ওই রাতেই ঘটনাস্থলে পৌছে ডাকাতদলের কাউকে আটক করতে না পারলেও একটি অবিষ্ফোরিত হাত বোমা ও একটি ধারাল দা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে মাগুরার পুলিশ সুপার খাঁন মুহাম্মদ রেজোয়ান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সার্কেল) আহ্সান হাবিব এবং শ্রীপুর থানার ওসি মো. মাহাবুবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘তোমার বাবাকে ডিবি তুলে এনেছে, এক লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দেওয়া হবে’

পুলিশ সুপার খাঁন মুহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, ‘ডাকাতির ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক, খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা জড়িতদের পাকড়াও করতে পারব বলে আশা করছি।’ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত শ্রীপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছিল বলে জানা গেছে।

ইত্তেফাক/নূহু