মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বলেছেন, বাংলাদেশ শিক্ষা-সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধন করছে। আমি মনে করি তাদের আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মজীনা বলেন, এই সমস্ত ক্ষেত্রে বিশেষ করে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি গতকাল সোমবার দুপুরে সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তা এলাকায় অবস্থিত হিল রিসোর্টে বৃহত্তর জৈন্তা-খাসিয়া কল্যাণ সমিতি তার সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় বক্তব্যদানকালে এ কথা বলেন। তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের স্বাস্থ্যের উন্নতি ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি হেনরী লামিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জৈন্তা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ। পরে সেখানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মাঘের দুপুরে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত মনোরম হিল রিসোর্টে ড্যান মজীনা ও তার স্ত্রী গ্রেইস মজীনা পৌঁছলে আয়োজক সমিতি, স্থানীয় প্রশাসন তাদের উষ্ণ সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে। ড্যান মজীনা দু’দিনের সফরে রবিবার রাতে সড়কপথে সিলেটে আসেন। আসার পথে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে ইউএসএইড, হীড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে যক্ষ্মা প্রতিরোধ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেখানে চা শ্রমিকরা তাকে নেচে-গেয়ে উষ্ণ সংবর্ধনা জানায়।
ড্যান মজীনা সোমবার সকালে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ:)-এর মাজার পরিদর্শন করেন। তিনি মাজারের পুকুরে গজার মাছও পরিদর্শন করেন। এ সময় ফটো সাংবাদিকদের ফটো তুলতে দেয়া হয়নি। মাজার এলাকা ছিল কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে।
এর আগে সকালে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়ে মিলিত হন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। দেশটি ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশটি সামনের দিকে আরো এগিয়ে যাবে।
মজীনা বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে দেখেছি। দেশটিতে রয়েছে বিরাট সম্ভাবনা। বাংলাদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র নানাভাবে সহযোগিতা করছে। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। দুপুরে জাফলং পরিদর্শনে গিয়ে ড্যান মজীনা জালংয়ের বিভিন্ন সৌন্দর্যময় এলাকা পরিদর্শন করে মুগ্ধ হন বলে জানায় তার সফরসঙ্গী সূত্র।
