রংপুরে বিভিন্ন উন্নয়নের নামে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মোঃ শহিদ খান ও তার আত্মীয়-স্বজনরা বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করে ওই সচিবের শাস্তি দাবি করেছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। সচিবের অনিয়ম তদন্তের জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দল রংপুরে পাঠানোর জন্য তিনি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
আগামী বুধবারের মধ্যে স্থানীয় সরকার সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানিয়ে ঝন্টু বলেন, ‘অন্যথায় বৃহস্পতিবার টাউন হল মাঠে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও জনগণকে নিয়ে জনসভা করে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ গতকাল সোমবার জিএল রায় রোডের নির্বাচনী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র ঝন্টু এই দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের এক মাস পরও মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ অনুষ্ঠান এবং দায়িত্বভার হস্তান্তর করা হয়নি। এর পিছনে স্থানীয় সরকার সচিবের হাত রয়েছে অভিযোগ করে ঝন্টু বলেন, শপথ অনুষ্ঠান ও দায়িত্বভার হস্তান্তর অনুষ্ঠান করে থাকে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কিন্তু সাবেক মেয়র একেএম আব্দুর রউফ মানিকের সঙ্গে যোগসাজশ করে সচিব পরিকল্পিতভাবে শপথ অনুষ্ঠান বিলম্ব করাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার সচিব আবু আলম মোঃ শহিদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে মেয়র ঝন্টুর আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। রংপুরের সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ অনুষ্ঠানের পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় পেলেই যে কোন সময় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে।
‘সচিব শহিদ খানের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে আপনি কি বুধবার পর্যন্ত সরকারকে আলটিমেটাম দিলেন?’—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ঝন্টু বলেন, ‘শহিদ খান রংপুরের সন্তান, একজন সচিব। আমি কোন আলটিমেটাম দিচ্ছি না। সচিব শহিদ খানের ভাব দেখে মনে হয় তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও বেশিকিছু। যেখানে ইচ্ছা সেখানেই মাথা ঘামাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, গত বছরের ৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর জিলা স্কুল মাঠের জনসভায় রংপুরের উন্নয়ন করার দায়িত্ব নিলে এর ফায়দা লুটছেন স্থানীয় সরকার সচিব আবু আলম মোঃ শহিদ খান ও তার আত্মীয়-স্বজনরা।
ঝন্টু অভিযোগ করেন, বিগত মেয়র একেএম আব্দুর রউফ মানিক, সচিব শহিদ খান ও তার আত্মীয়-স্বজন ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের চলমান কাজগুলোতে অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। রংপুরের জনগণের স্বার্থে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের চলমান কাজগুলো বন্ধের জন্য মৌখিক নির্দেশ দিয়েছি।’
এ ব্যাপারে সাবেক পৌর মেয়র একেএম আব্দুর রউফ মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার সচিব শহিদ খান একজন সত্ ও ভালো মানুষ। রংপুরের উন্নয়নে অনেক রাজনীতিবিদের চেয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। টাকা দিয়ে তাকে কেনা যাবে না। মানিক দাবি করেন, সচিবের মাধ্যমে রংপুরের উন্নয়নের জন্য অনেক প্রকল্প ও অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি কোন দুর্নীতি করিনি। আর সচিবের করার তো প্রশ্নই ওঠে না।’
গত ২০ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। গত সপ্তাহে নির্বাচনের গেজেড প্রকাশিত হলেও শপথ ও দায়িত্বভার হস্তান্তরে এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। রংপুরের বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ কাউন্সিলর ঝন্টুর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনে থাকার কথা জানান।
