বিশ্ব জুড়ে গণমাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের রায়

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৭
১৯৭১ সালের মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় গতকাল সোমবার জামায়াত ইসলামীর সাবেক রুকন পলাতক আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রইব্যুনাল-২। গতকাল সোমবার দুপুরে রায় ঘোষণা করার পর বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিশ্ব গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে এ সংবাদ। বিবিসি তাদের ইংলিশ ভার্সনে এ সম্পর্কিত প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছে, ‘বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের মামলায় ধর্মীয় নেতার মৃত্যুদণ্ড’। এতে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় ছয়জন হিন্দুকে হত্যা এবং একই ধর্মাবলম্বী নারীদের ধর্ষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। প্রতিবেদনে আদালত নিয়ে বিতর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, এটি জাতিসংঘ কর্তৃক অনুমোদিত নয়। ১৯৭১ সালে আযাদ পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করেছেন এবং তিনি রাজাকার বাহিনী ও জামায়াত ইসলামীর একজন জুনিয়র সদস্য ছিলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ‘যুদ্ধাপরাধের মামলায় বাংলাদেশের ইসলামিক নেতার মৃত্যুদণ্ড’। বাংলাদেশের সবচে বড় ইসলামী দলের সাবেক সদস্য আবুল কালাম আযাদ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নির্যাতন, ধর্ষণ এবং গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। পুলিশ জানিয়েছে, তারা মনে করছেন আযাদ পালিয়ে পাকিস্তানে গেছেন। ট্রাইব্যুনাল নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেছে যে, আদালতের বিচারে আন্তর্জাতিক মানের অভাব রয়েছে। ভারতের সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত’ শীর্ষক শিরোনামে জানিয়েছে, আযাদের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে আট ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ১৯৭১ সালে ফরিদপুরে ১২ জন নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা এবং দুই জন মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ওই সময় একজন পাকিস্তানি মেজরকেও সহায়তার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। টাইমস অব ইন্ডিয়া ‘বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের জন্য টেলিভিশন উপস্থাপকের মৃত্যুদণ্ড’ শীর্ষক শিরোনামে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিতর্কিত যুদ্ধাপরাধ আদালত ১৯৭১ সালে গণহত্যা এবং অন্যান্য অভিযোগে একজন ইসলামিক টেলিভিশন উপস্থাপক মাওলানা আবুল কালাম আযাদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। এনডিটিভি শিরোনাম দিয়েছে, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীকে বাংলাদেশি আদালতের ফাঁসির আদেশ’। পলাতক আবুল কালাম আযাদ (বাচ্চু রাজাকার) মৌলবাদী দল জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে সংযুক্ত। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। এএফপি ‘বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের মামলায় টেলিভিশন উপস্থাপকের ফাঁসির আদেশ’ শিরোনামে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিতর্কিত যুদ্ধাপরাধ আদালত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গণহত্যা এবং অন্যান্য অভিযোগে আযাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের এ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি লিখেছে, ‘দেশের জন্য আজ একটি ঐতিহাসিক দিন, এটা মানবতার জয়’। এটি একটি দেশীয় আদালত এবং এতে কোনো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ছিলেন না বলে সংবাদ মাধ্যমটি জানায়। পাকিস্তানি পত্রিকা ‘ডন’ তাদের অনলাইনে এক প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছে, ‘বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের কারণে টেলিভিশন উপস্থাপকের মৃত্যুদণ্ডের রায়’। ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় গণহত্যা এবং অন্যান্য জঘন্য অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামী দাবি করেছে, এই আদালত রাজনৈতিক প্রভাবাধীন। দ্য গার্ডিয়ান শিরোনাম দিয়েছে, ‘মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশে এক ধর্মীয় নেতার মৃত্যুদণ্ড’। ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটরের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখা হয়েছে, তিনি ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় প্রায় ১২ জনের বেশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে হত্যা এবং হিন্দু নারীদের ধর্ষণ করেন। তিনি নিজেই ছয়জনকে হত্যা করেন এবং গণহত্যায় অংশ নেন। এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের একজন মুসলিম নেতার ফাঁসির আদেশ দিয়েছে। পলাতক আযাদ মৌলবাদী দল জামায়াত ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত। টেলিভিশনে উপস্থাপনা এবং তার রঙ্গিন দাড়ির জন্য তিনি পরিচিত। এছাড়া পাকিস্তান টুডে, আরব নিউজ, চ্যানেল নিউজ এশিয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি গুরুত্ব পেয়েছে।