ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদের সূচনা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩১
মার্কিন জাতির মৌলিক নীতিগুলির বাস্তবায়নের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়া প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হইল গত ২০ জানুয়ারি। ক্যাপিটাল হিলের জনাকীর্ণ সমাবেশে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ও অহিংস আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ব্যবহূত বাইবেল স্পর্শ করিয়া শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণ শেষে তিনি আরেকটি মনোমুগ্ধকর ভাষণ প্রদান করেন যাহা ইতিহাসের বিচারে স্মরণীয় হইয়া থাকিবে বলিয়া আমরা মনে করি। এবারের ভাষণে তিনি আমেরিকার উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণা অনুযায়ী মার্কিন জনগণের মৌলিক অধিকারগুলি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন। তাহার বক্তৃতায় ব্যক্তি স্বাধীনতা, সুখময়তা, সামাজিক ন্যায়বিচার, নাগরিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা সমুন্নত করিবার কথা বলা হইয়াছে। তিনি বলিয়াছেন, ‘আমাদের স্ত্রী, মা ও বোনেরা জীবন যাপনের ক্ষেত্রে সমান অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযাত্রা শেষ হইবে না’। তাহাছাড়া তিনি সিনিয়র নাগরিকদের সরকারি সুবিধা বৃদ্ধি ও চিকিত্সা সেবা জোরদার করিবার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। বারাক ওবামা ৪৪তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং ইহার আগে আরও ১৬ জন প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সৌভাগ্য অর্জন করিয়াছেন। ২০০৯ সালে তিনি যখন প্রথমবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন আমেরিকা বিশ্বমন্দার কবলে পড়ে। ইহাছাড়া ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ এবং সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির কারণে মার্কিন জনগণের কপালে ভাঁজের রেখা দেখা দিয়াছিল। সেখান হইতে তিনি চার বত্সরে মার্কিন জাতিকে অনেকটাই নিরুদ্বেগ করিতে পারিয়াছেন। ওসামা বিন লাদেনকে এক দুঃসাহসী সামরিক অভিযানে হত্যা, ইরাক হইতে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার এবং আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ও আগামী বত্সরের মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণায় অনেকে আশ্বস্ত হইয়াছেন। তাহার শাসনামলে আমেরিকা বিশ্বমন্দার প্রভাব অনেকটাই কাটাইয়া উঠিয়াছে। বেকারত্ব হ্রাসেরও খবর পাওয়া যাইতেছে। অভিবাসন নীতিমালা সংস্কারের উদ্যোগে বাংলাদেশের ন্যায় এশিয়ার অনেক দেশের নাগরিক সন্তোষ প্রকাশ করিয়াছেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উন্মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠনে কাজ করিবার মধ্যেও অনেক সুখবর নিহিত রহিয়াছে। তবে ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে চ্যালেঞ্জের পরিধিই বেশি। বিশেষত পররাষ্ট্রনীতিতে নূতন করিয়া অনেক সংকট দেখা দিয়াছে যাহা মোকাবিলা করা সহজ হইবে না। বর্তমানে আফ্রিকার দেশ মালি ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়ায় ভয়াবহ সংকট চলিতেছে। আরব বসন্ত উপহার দিতে মার্কিন প্রচেষ্টার আন্তরিকতা নিয়া সন্দেহের কোন অবকাশ নাই। কিন্তু সিরিয়ায় আসিয়া আরব বসন্ত যেন দুর্বিপাকে পড়িয়াছে। অন্যদিকে সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ নিয়া মার্কিন জনগণের পরম বন্ধু জাপানের সহিত চীনের শীতল সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এমতাবস্থায় আমেরিকার বাজেট, চীন ও মধ্যপ্রাচ্য এই তিন ইস্যু ওবামাকে অধিক ভোগাইতে পারে। আমেরিকার ঋণের অঙ্ক কমাইতে ও কাট-ছাঁটকৃত বাজেট বাস্তবায়নে বিরোধী দল রিপাবলিকানের সহযোগিতা তাহার খুবই দরকার। বর্তমানে হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসে রিপাবলিকান ও কংগ্রেসে ডেমোক্রাটরা সংখাগরিষ্ঠ। সুতরাং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নীতির ব্যাপারে তাঁহাকে বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হইতে পারে। এইজন্য সমঝোতার কোন বিকল্প নাই। বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণকে আমরা সর্বান্তকরণে স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই। তাহার শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান হইতে আমাদের জন্য শিক্ষণীয় হইল, তিনি পবিত্র ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করিয়া শপথ লইয়াছেন। দ্বিতীয়ত তিনি তাহার বক্তৃতায় ব্লেম গেইমের কোন আশ্রয় নেন নাই। নির্বাচনী প্রচারণাকালেও তিনি কোনরূপ ব্যর্থতার জন্য বুশ আমলকে দায়ী করেন নাই। অথচ আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে কথায় কথায় পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করা হয় এবং সবকিছুর জন্য দায়ীও করা হয়। এইসব দেশের এই রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য যুগ যুগ ধরিয়া চলিয়া আসিতেছে। এখন ইহার অবসান কাম্য। পরিশেষে দ্বিতীয় মেয়াদেও বারাক ওবামা সফল ও কৃতকার্য হউন, ইহাই আমাদের একান্ত কামনা।