আশুগঞ্জে চাতালকলের ছাই বর্জ্যে সেচখাল ভরাট

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৫
বিএডিসি‘র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ-পলাশ এগ্রো ইরিগেশন প্রকল্পের প্রধান সেচ খালে অবাধে ফেলা হচ্ছে চাতালকলের ছাই ও বর্জ্য। আর এসব ছাই ও বর্জ্যে সেচ খালের তলদেশ কমপক্ষে ৩ ফুট ভরাট হয়ে গেছে। উজান এলাকার জমিতে দ্রুত পানি সরবরাহে সৃষ্টি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা। কর্তৃপক্ষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেও সেচ খাল থেকে ছাই ও বর্জ্য সরিয়ে নিতে পারছে না। চলতি বুরো মৌসুমে জেলার ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে যথাসময়ে সেচের পানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে বোরো চাষ বিলম্ব হয়ে ফলন কম হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা। বিএসিডিসির আশুগঞ্জ-পলাশ এগ্রো ইরিগেশন প্রকল্পটি অত্যন্ত কম খরচে অধিক ফসল উত্পাদনের একটি ব্যতিক্রমধর্মী সেচ প্রকল্প। প্রতি বছর বোরো মৌসুমে আশুগঞ্জ বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ডিসচার্জ চ্যানেল থেকে একটি স্লুইচ গেটের মাধ্যমে এক হাজার কিউসেক পানি সরবরাহ করা হয়। এই পানি প্রকল্পের প্রধান খালের মাধ্যমে জেলার ৩টি উপজেলার ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ হিসাবে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকল্পের আশুগঞ্জ থেকে সরাইল শাহবাজপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার প্রধান খালে গত এক বছর ধরে অবাধে ফেলা হচ্ছে শতাধিক চাতালকলের ছাই ও বর্জ্য। এসব ছাই ও বর্জ্যে সেচ খালের তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। খালের কোন কোন জায়গায় বালি দিয়ে ভরাট করে দখলও করে নিয়েছে কেউ কেউ। এতে প্রধান এই খালে পানি স্বাভাবিক প্রবাহে সৃষ্টি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা। প্রকল্পের অধীনস্থ জমিতে যথাসময়ে পানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ছাই ও বর্জ্য অপসারণ করতে চাতালকল মালিকদের বার বার নোটিশ ও মাইকিং এবং একাধিকবার মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু কোন প্রতিকার পায়নি কর্তৃপক্ষ। নিরুপায় হয়ে গত ২/৩ দিন ধরে প্রকল্পের পক্ষ থেকে কিছু শ্রমিক দিয়ে ছাই সরানোর কাজ করা হচ্ছে। চাতালকল মালিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রথমে শক্ত কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানার পদক্ষেপ নিলে মালিকরা একটু নড়েচরে উঠে। কিন্তু ছাই ও বর্জ্য সরানো চলছে খুবই ধীর গতিতে। আশুগঞ্জ সোনারামপুরের কৃষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সফর আলী জানান, সেচ খালে ছাই ও বর্জ্যর সাথে নোংরা পানি গিয়ে জমির উর্বরতা নষ্ট হবে এবং হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ছাই ও বর্জ্য সরানোর ব্যাপারে চাতালকল মালিকদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। সরাইলের কৃষক মোঃ গোলাপ মিয়া জানান বোরো চাষের জন্য জমি এক সপ্তাহ আগেই প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। পানি আসতে দেরি হলে বোরো চাষ বিলম্ব হবে এবং কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গত বছরও চাতালকলের ছাই ও বর্জ্যের কারণে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে যথাসময়ে পানি সরবরাহ হয়নি। এবারো একই অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রকল্পের সরাইল উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মোঃ মোসলেহ উদ্দিন জানান আগামীকাল ২৪ জানুয়ারি প্রধান এই সেচ খালে পানি ছাড়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে ২০ কিলোমিটার খালের ছাই ও বর্জ্য সরানো কিছুতেই সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় পানি ছাড়া হলে উজান এলাকায় পানি যেতে বিলম্ব হতে পারে। নাসিরনগর ও সরাইলের কৃষকরা যথাসময়ে পানি না পেলে সড়ক অবরোধ করতে পারে। আশুগঞ্জ-পলাশ এগ্রো ইরিগেশন প্রকল্পের পরিচালক মোঃ শাহাবুদ্দিন তালুকদার জানান, প্রধান সেচ খাল থেকে ছাই ও আবর্জনা অপসারণ করতে চাতালকল মালিকদের মাইকিং ও একাধিকবার নোটিস করে কোন প্রতিকার না পেয়ে পরবর্তীতে তিন দফা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। বর্তমানে কিছু চাতাল মালিক খাল থেকে ছাই ও বর্জ্য অপসারণ শুরু করেছে। এছাড়া প্রকল্পের নিজস্ব কিছু শ্রমিক দিয়ে ছাই সরানোর কাজ হচ্ছে। সেচ খালে অধিকাংশ এলাকার ছাই ও আবর্জনা সরানো হয়ে গেছে। পানি ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই ছাই ও আবর্জনা সরানোর কাজ সম্পন্ন হবে। আশুগঞ্জ চাতালকল মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন জানান, মালিক সমিতির পক্ষ থেকে মাইকিং করে ছাই অপসারণের জন্য বলা হয়েছে।