বেড়া হাসপাতালে জনবল সঙ্কট চালু হয়নি ৫০ শয্যা কার্যক্রম

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৮
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরি হয়েছে বছর দেড়েক আগে। বছরখানেক আগে শর্তসাপেক্ষে মিলেছে প্রশাসনিক অনুমোদন। কিন্তু লোকবলের অভাবে চালু হয়নি ৫০ শয্যার স্বাভাবিক কার্যক্রম। বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ অত্যন্ত বেশি। যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা থাকায় এখানে বেড়া ছাড়াও সাঁথিয়া, সুজানগর, শাহাজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার রোগীরা চিকিত্সা নিতে আসে। এজন্য বেড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি দীর্ঘদিনের। দাবির মুখে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পদক্ষেপ নেয়া হয় ২০০৬ সালে। ৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবনসহ অবকাঠামো তৈরি করা হয়। সেগুলো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয় ২০১১ সালের জুন মাসে। এরপর ২০১১ সালের ৭ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া যায় ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন। তবে অনুমোদন দেয়ার সময় একটি শর্ত দেয়া হয়, জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আগের জনবল দিয়েই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজ চালাতে হবে। প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার পর এক বছর পার হলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল বাড়েনি। বর্তমানে ৩১ শয্যারও কম জনবল রয়েছে। ফলে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু হওয়া দূরে থাক, ৩১ শয্যার কার্যক্রমই চলছে খুঁড়িয়ে। ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন আবাসিক চিকিত্সক, এনেসথেজিস্ট, জুনিয়র কনসালটেন্ট-গাইনি, মেডিসিন, সার্জারিসহ চিকিত্সকদের নয়টি পদ রয়েছে। কিন্তু আছেন মাত্র ৫ জন। স্বাস্থ্য সহকারীর ছয়টি ও নার্সের একটি পদ ফাঁকা। অপরদিকে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকসহ ২৮ জন চিকিত্সক থাকার কথা। এছাড়া নার্স, আয়া, পিয়নসহ অন্যান্য কর্মচারীর পদও আনুপাতিক হারে বাড়ার কথা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন ভবনে ১৯ শয্যার একটি ওয়ার্ড, অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের চেম্বার রয়েছে। কিন্তু লোকবল না থাকায় সেগুলোতে কার্যক্রম চলছে না। ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের জন্যও এখানকার রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিক অথবা পাবনা সদরসহ অন্য এলাকার হাসপাতালে যেতে হয়। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে আসা নাকালিয়া গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন: ‘জরুরি ভিত্তিতে আমার স্ত্রীর সিজার করা দরকার। অথচ এ জায়গায় সুন্দর অপারেশন থিয়েটার থাকার পরও সিজারের ব্যবস্থা নাই। বাধ্য হয়া স্ত্রীকে পাবনা নেয়া লাইগত্যাছে।’ বেড়া পৌর এলাকার হাতিগাড়া মহল্লার বাসিন্দা হোটেল ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন: ‘৫০ শয্যায় উন্নীত হলি নাকি ভালো চিকিত্সা পাওয়া যায়। কিন্তু আমাগোরে হাসপাতাল ৫০ শয্যায় হলিউ ভালো চিকিত্সা মিলত্যাছে না।’ বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কার্তিক কুমার সাহা কলেন:‘শর্তসাপেক্ষে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেলেও লোকবল পাওয়া যায়নি। ফলে ৫০ শয্যার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না। তবে ৫০ শয্যা অনুযায়ী রোগীদের খাদ্য সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। লোকবল বাড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’