এক যুগ আগে দলিল পেলেও দখল পায়নি ভূমিহীনরা

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৯
নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের শতাধিক ভূমিহীন পরিবার খাস জমি বরাদ্দের দলিল হাতে পাওয়ার এক যুগ পরও জমির দখল বুঝে পায়নি। অধিকাংশ খাস জমি প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভূমিহীন পরিবারগুলো সরকারের বরাদ্দকৃত জমির দখল বুঝে পেতে আবেদন করে স্থানীয় ভূমি প্রশাসনসহ নানা জায়গা থেকে হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এএলআরডি, ব্লাস্ট, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, নিজেরা করি, একশন এইড বাংলাদেশ এবং টিআইবি’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়। সংস্থাগুলোর তরফে এই ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য একটি তথ্যানুসন্ধানী দল পাঠানো হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে মূলত এই দলের রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে সামিগ্রকভাবে বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা দেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, ব্লাস্ট’র অনারারি ডিরেক্টর ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কয়েকজন ভূমিহীন অভিযোগ করেন, নীলফামারীর জেলা প্রশাসক তাদের সহযোগিতা করছেন না। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসক সম্ভবত মনে করেন জনগণ মালিক নয়, প্রজা। যেমনটি আগে ছিল। এটি নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এ নিয়ে মামলা করা যায় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় বলা হয়, ভূমিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ভোগডাবুড়ি, কেতকিবাড়ী, গোমনাতী, বামুনিয়া ও পাঙ্গাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি বিতরণ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নে ৪৯০টি ভূমিহীন পরিবারের মাঝে প্রায় ২৪৫ দশমিক ৪৫ একর খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৫৭টি পরিবার খাস জমির বন্দোবস্তের কাগজপত্র পেলেও বাস্তবে তারা মোট ৫৫ দশমিক ১ একর জমির সম্পূর্ণ দখল বুঝে পায়নি। ভূমিহীন দরিদ্র মানুষ স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে কোন সুফল না পেয়ে মানববন্ধন করে এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় জেলা প্রশাসক বিষয়টিকে সহজভাবে গ্রহণ করেননি। পক্ষান্তরে প্রশাসনের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে আড়াল করতে ভূমিহীনদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও গ্রেফতারের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সোজা কথায় ক্ষমতার অপব্যবহার করার ঘটনা এটি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাবশালীদের জমি ভোগদখলের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। টাকার অংকে এই ঘটনার মূল্যায়ন করা যাবে না। তবে এটি চূড়ান্ত ধরনের দুর্নীতি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ভূমি প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এই ঘটনা ঘটেছে। নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীদের পক্ষে সবসময় রাজনৈতিক শক্তি থাকে। যে দল যখন ক্ষমতায় আসে তারা এদের উপর নির্ভর করে। সংবাদ সম্মেলনে ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের ভূমিহীনদের অনতিবিলম্বে জমির দখল বুঝিয়ে দিতে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়।