রাজধানীর আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সুবীর ত্রিভুজ প্রেমের নির্মম বলি হয়েছেন। প্রেমঘটিত কারণে তাকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। ১২ দিন নিখোঁজ থাকার পর সোমবার রাতে সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সুবীরের গলায় কালো দাগসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ ব্যাপারে সুবীরের পিতা গৌরাঙ্গ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে সুবীরের সহপাঠী লুত্ফা আক্তার ওরফে সনি, শফিক আহমেদ ওরফে রবিন, ফয়সাল ওরফে সেতু ও মো: ইউসুফকে আসামি করে সাভার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সুবীর রাজধানীর আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ৭ম বর্ষের ছাত্র। একই ক্লাসের ছাত্রী লুত্ফা আক্তার ওরফে সনির সাথে তার গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। উভয়েই একে অপরের বাসায় যাতায়াতও করতেন। গত ১২ ডিসেম্বর লুত্ফার সঙ্গে শফিক আহমেদের গোপনে বিয়ে হয়। লুত্ফা এই গোপন বিয়ে সত্ত্বেও সুবীরের সাথে প্রেমের সম্পর্ক অটুট রাখেন। ১১ জানুয়ারি লুত্ফা তার স্বামী শফিকের অমতে টাংগাইলের মধুপুরে সুবীরের সঙ্গে পিকনিকে যান। এতে সুবীরের উপর ভয়ানক ক্ষিপ্ত হন রবিন।
এরপর কৌশলে রবিন ১২ জানুয়ারি বিকেলে সুবীরকে সাভার থেকে অপহরণ করেন। সুবীর বাসায় ফিরে না এলে তার পিতা গৌরাঙ্গ চন্দ্র দাস সাভার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। অবশেষে সোমবার সন্ধ্যায় ভাকুর্তা ইউনিয়নের টোটালীপাড়া এলাকার একটি ইট ভাটার সন্নিকটে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় থেকে সাভার থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। সংবাদ পেয়ে সুবীরের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে।
সুবীরের পিতা গৌরাঙ্গ চন্দ্র দাস জানান, প্রেমঘটিত ঘটনায়ই আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার পুত্রকে অপহরণ করে হত্যা শেষে লাশ গুমের উদ্দেশে উক্ত স্থানে ফেলে রাখে। এ ঘটনায় পুলিশ মঙ্গলবার মামলার মূল আসামি সনি, রবিন ও সেতুকে গ্রেফতার করেছে।
