তৈরি পোশাক আমদানির ক্ষেত্রে খ্যাতনামা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট তাদের নীতিমালা কঠিন করতে যাচ্ছে। যেসব পোশাক সরবরাহকারী ওয়ালমার্টের অর্ডার নিয়ে তৃতীয় কোন কারখানায় সাব-কন্ট্রাক্ট করাবে তাদেরকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশেসহ অন্য দেশগুলোতে নতুন এ নীতিমালা আগামী মার্চ থেকে কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এ খবর জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ওয়ালমার্ট তাদের পণ্য সরবরাহকারীদের এ বলে সতর্ক করে দিয়েছে যে, কোম্পানিটির পূর্ব অনুমতি না নিয়ে কোন কারখানা যদি তৃতীয় পক্ষের সাথে তা ভাগাভাগি করে তাহলে অর্ডার নেয়া প্রতিষ্ঠানটিকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে। বাংলাদেশি কারখানা তাজরিন ফ্যাশন্স-এ অগ্নিকাণ্ডে বহু শ্রমিকের প্রাণহানির পর ওয়ালমার্ট তাদের নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে এপির রিপোর্টে বলা হয়। উল্লেখ্য, গতবছরের নভেম্বর মাসে তাজরিনের যে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সে কারখানাটি ওয়ালমার্টের অনুমোদিত ছিলো না। তৃতীয় একটি কারখানায় তাজরিনের মালিক ওয়ালমার্টের জন্য পোশাক প্রস্তুত করছিলো।
সমপ্রতি ওয়ালমার্ট তাদের সাপ্লাইয়ারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বলেছে, অনুমতি ছাড়া কোন সরবরাহকারী যদি তৃতীয় কাউকে দিয়ে কাজ করান তাহলে সেক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখানো হবে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং কানাডার ওয়ালমার্ট স্টোরগুলোতে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে কোন কারখানার মালিক বিনা অনুমতিতে কোন কারখানাকে সাব-কন্ট্রাক্ট দিলে তাকে তিনবার সুযোগ দেয়া হতো। চিঠিতে আরো বলা হয়, যেসব কারখানা ওয়ালমার্টের কাজ করার জন্য অনুপযুক্ত বিবেচিত হবে সেগুলোর তালিকা কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে আগামী জুন মাস থেকে ওয়ালমার্ট তার পণ্য সরবরাহকারীদের জন্য আরো একটি নিয়ম বেধে দেবে। এখন যেসব কারখানায় ওয়ালমার্টের পণ্য তৈরি হয়, সে কারখানাগুলো তৃতীয় কোন পক্ষ অডিট করে থাকে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ওয়ালমার্টের পণ্য সরবরাহকারীরা তাদের একজন এজেন্ট সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পাঠাবে। তারা নিজেরাই যাতে কর্মপরিবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে সে লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়ালমার্ট। ওয়ালমার্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজন কমলাথান এপিকে বলেছেন, আমরা কারখানার মালিকদের সম্মান করবো ঠিক আছে, কিন্তু তাদের জবাবদিহিতার বিষয়টিও আমরা সবসময় খেয়াল রাখবো। কারণ, আমরা বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তাদের কাজ দিয়ে থাকি।
ওয়ালমার্টে তাদের নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের আগে আজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার পণ্য সরবরাহকারীদের সাথে বৈঠকে বসবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো: সিদ্দিকুর রহমান ইত্তেফাককে বলেছেন, তৃতীয় কোন কারখানায় কাজ করাতে হলে অবশ্যই ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। ওয়ালমার্টের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তারা দুভাবে কাজ করে থাকে। এর একটি হলো সরাসরি। আর অপরটি হলো অন্য কোন সাপ্লাইয়ারের মাধ্যমে। যদি কোন কারখানা অনুমতি না নিয়ে তৃতীয় কোন পক্ষকে কাজ দিয়ে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিতেই পারে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে যেসব ক্রেতা পোশাক আমদানি করে তাদের মধ্যে ওয়ালমার্টের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রথম অবস্থানে আছে সুইডেনের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এইচ এন্ড এম। গত নভেম্বরে আশুলিয়ায় গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের আগেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে ওয়ালমার্ট উদ্বিগ্ন ছিলো। এ সময় তারা প্রতিটি কারখানায় অগ্নি নিরাপত্তা ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করেছিলো। শ্রমিকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা বিধানের জন্য ওয়ালমার্ট একটি ফান্ড গঠনেরও পরিকল্পনা করছে। এ নিয়েও কোম্পানির মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
