বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই প্রতি শুক্রবারের আয়োজনে থাকছে একটি করে দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো
সিরাজগঞ্জের নবরত্ন মন্দির-এর কথা।
নবরত্ন মন্দির
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকামরুল ইউনিয়নের নবরত্নপাড়া গ্রামে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই নবরত্ন মন্দিরটি। মন্দিরটির আশেপাশে আরও কিছু ছোট-বড় মন্দির থাকলেও নবরত্ন মন্দির নামের মূল মন্দিরটিই নানা সময়ে দর্শণার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এসব মন্দিরের নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো শিলালিপি পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হয় যে, আনুমানিক ১৭০৪-১৭২০ সালের মধ্যে নবাব মুর্শিদকুলি খানের শাসনামলে তার জনৈক নায়েব দেওয়ান রামনাথ ভাদুরী নামক ব্যক্তি এই মন্দিরগুলো স্থাপন করেন। মূল মন্দিরটি তিনতলা বিশিষ্ট এবং অন্যান্য মন্দির সমূহ দোচালা ও মঠাকৃতি আটকোনা বিশিষ্ট। এ মন্দির নির্মাণকালে প্রতিটি ইট ঘিয়ে ভেজে তৈরি করা হয়েছিল মর্মে জনশ্রুতি রয়েছে। হিন্দু স্থাপত্যের উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মূল নবরত্ন মন্দিরটি ৩ তলা বিশিষ্ট। একসময় এ মন্দিরে ছিল পোড়ামাটির ফলক সমৃদ্ধ ৯টি চূড়া। অনেকের মতে এ কারণেই এই মন্দিরকে নবরত্ন মন্দির বলা হতো। দেখতে অনেকটা দিনাজপুর জেলার কান্তজীর মন্দিরের অনুকরণে গঠিত তিনতলা এই মন্দিরের আয়তন ৬৫.২৪ বাই ৬৫.২৪। বর্গাকার মন্দিরটি প্রায় ২ ফুট চওড়া একটি ভিত্তির উপর নির্মিত। মন্দিরটি ক্রমরাসমান তিনতলা বিশিষ্ট। মন্দিরের উপরের রত্ন বা চূড়াগুলো অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। নিচতলায় ২টি বারান্দা বেষ্টিত একটি গর্ভগৃহ। এর বারান্দার বাইরের দিকে ৭টি এবং ভিতরের দিকে ৫টি খিলান বা প্রবেশ পথ। গর্ভগৃহের পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে ২টি প্রবেশ পথ আর মন্দিরের ২য় তলায় কোনো বারান্দা নেই। মন্দিরের মূল কক্ষটি বেশ বড়। চারদিকের দেওয়ালের বাইরের চারপাশে পোড়ামাটির ফলক দিয়ে সাজানো থাকলেও কালের বিবর্তনে এবং সংরক্ষণের অভাবে এখন অধিকাংশ পোড়ামাটির ফলকই আর চোখে পড়ে না। যদিও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মন্দিরটি অধিগ্রহণ এবং নতুন করে এর সংস্কার করার পর এটি নতুন আদল লাভ করেছে।
