ঢাকা সিটি ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মজুমদারকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আনন্দনগর গ্রামের শ্বশুর বাড়ি থেকে অপহরণ ও হত্যা মামলার তদন্ত ঢিলেঢালাভাবে চলছে। এ হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি। ১৯ জানুয়ারি বিকালে আনন্দনগর গ্রামের কলেজ ছাত্র সোহেল রানাকে শেখপাড়া হাট থেকে দু’জন মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়। তারপর থেকে রানা নিখোঁজ রয়েছে। পুলিশ তার সন্ধান পায়নি। সে বেঁচে আছে কিনা তাও কেউ বলতে পারছে না। শনিবার বিকাল থেকে সোহেল রানার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। ইত্তেফাকের অনুসন্ধানে জানা যায়, রফিকুল ইসলামের শ্বশুর বাড়ির সাথে নিখোঁজ রানার গভীর সম্পর্ক ছিল। শাশুড়ির বাড়ির সামনে তাদের চায়ের দোকান। রফিকুলের শাশুড়ি লিপি বেগম বাড়িতে একা থাকতেন। রানা তার দেখাশুনা করত। বাজার করে দিত। নিহত রফিকুল শাশুড়ির বাড়িতে এলে বের হতেন না। রানা তার কাছে কাছে থাকত। ফাই-ফরমায়েস খাটত। সামপ্রতিক সময়ে রফিকুল ইসলামের আনন্দনগর গ্রামে আসা-যাওয়া বেড়ে গিয়েছিল। রফিকুল ইসলামের বড় ভায়রা সাইদুর রহমান সাইদ জানান, রফিকুল মাঝে-মধ্যে রানাকে দু’ এক হাজার টাকা দিতেন। পুলিশের ধারণা রফিকুল সম্পর্কে নিখোঁজ রানা হয়ত অনেক কিছু জানত। ওই গ্রামের একজন জানান, রফিকুল অপহরণ ও নিহত হওয়ার পরদিন রানাকে দূরে দূরে থাকতে দেখা যায়। রফিকুল অপহরণ ও খুন হওয়ার পর তার শাশুড়ি লিপি বেগম মঙ্গলবার প্রথম পুলিশের সাথে কথা বলেন। ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের অফিসে গিয়ে তিনি অতিরি্ক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামানের সাথে কথা বলেছেন। জামাই খুন হওয়ার পর তিনি আর্থিক কষ্টে আছেন। জামাই তার বাড়ি করে দেন এবং সংসার খরচ চালাতেন বলে জানান। স্বামী বুলু মিয়া ইবি থানাধীন বিষ্ণুদিয়া গ্রামে থাকেন। স্বামীর সাথে তার বর্তমানে বনিবনা নেই। লিপি বেগম অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে জানান, ইদানীং বিএনপি কোন আন্দোলনের কর্মসূচি দিলে রফিকুল আনন্দনগরে চলে আসতেন। আন্দোলনের কর্মসূচি পার হলে ঢাকাতে ফিরে যেতেন। তিনি আরোও জানান, রফিকুলের ভাইদের সাথে তাদের সম্পর্কের চিড় ধরছে। মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা ঝরার ভাগ্য নিয়েও তিনি সন্দিহান।
