জাতীয় পর্যায়ে পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ মিশ্রণ বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ইউনিসেফের সহায়তায় ‘ভোজ্যতেল ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ আইন’ প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এর খসড়া প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের মতামত নেয়ার কাজ চলছে। চলতি বছর জাতীয় সংসদে এ আইন পাস করা হবে।
ইউনিসেফ-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি পেসক্যাল ভিলেন্যুর-এর সাথে বৈঠককালে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া একথা জানান। গতকাল বৃহস্পতিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুনসুর আলী সিকদার, বাংলাদেশে ইউনিসেফের পুষ্টি শাখার প্রধান নরিন প্রেনডিভিল, পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. আইরিন এ. চৌধুরীসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে পুষ্টি ঘাটতি মোকাবেলায় ইউনিসেফ-এর সহায়তায় গৃহীত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ-সবল জাতি বিনির্মাণে বাংলাদেশে সুষম খাদ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
বৈঠকে ইউনিসেফের প্রতিনিধি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জনগণের ভাতের নিরাপত্তা বিধানে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সফল হয়েছে। এ মুহূর্তে দেশের জনগণের জন্য সুষম খাদ্যের যোগান বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে পুষ্টিকর খাদ্য উত্পাদন ও খাদ্যের মানোন্নয়নে ইউনিসেফ-এর সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
পেসক্যাল ভিলেন্যুর বলেন, সমৃদ্ধ জাতি বিনির্মাণের জন্য মানব পুঁজির গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশে মানব পুঁজির বিকাশে শিশুদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি এ লক্ষ্যে ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ আইন দ্রুত পাসের তাগিদ দেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে শিল্পসমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য স্বাস্থ্যবান ও মেধাবী জনগোষ্ঠী প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে মহাজোট সরকার ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ ও লবণে আয়োডিন মিশ্রণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এর পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন, সংরক্ষণ ও খাদ্য-শিল্পের বৈচিত্র্যকরণে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি ইউনিসেফের সহায়তা কামনা করেন।
